থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে এগিয়ে ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার

পূর্ব এশিয়া

(ব্যাংকক, থাইল্যান্ড) থাইল্যান্ডে ররিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা সরকারের সমর্থকরা। ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে জান্তা সমর্থক পালাং প্রাচা রাথ পার্টি পেয়েছে ৭৬ লাখ ভোট। তাদের চেয়ে প্রায় পাঁচ লাখ ভোট কম পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বিরোধী দল পিউ থাই পার্টি। একেবারেই নতুন দল ফরওয়ার্ড পার্টি পেয়েছে ৫০ লাখ। তবে এখন আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি। খবর বিবিসি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড’র।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থিত পিয়ু থাই পার্টি ২০০১ সালের পর অনুষ্ঠিত দেশটির সবকটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। তবে এবারের নির্বাচন যে জান্তা সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র সেই ইঙ্গিত আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

২০১৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থাইল্যান্ডে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। প্রায় পাঁচ কোটি ১৪ লাখ ভোটারের জন্য দেশজুড়ে ৯৩টি পোলিং স্টেশনে ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবারের নির্বাচনকে মূলত বর্তমান জান্তা সরকার ও সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছিল। গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাসিত সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অনুগতরা।

থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন। তার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা পরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন।

২০১৪ সালে ইংলাককেও ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। জান্তা সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন প্রায়ুথ চ্যান ওচা। সামরিক জান্তা সরকার থাকসিনের দল পিউ চার্ট পার্টিকে ভেঙে দেওয়ার হুমকি প্রদানের পর থাই রাকসা চার্ট পার্টি নামে ছোট পরিসরে আরেকটি দল গড়ে তোলে তারা। থাকসিন নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেই দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার সামরিক শাসকের দাগ মুছে নিজেকে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেখতে চায়। নির্বাচনের আগেই এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, দেরি করে অনুমতি দেওয়ায় তাদের পক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানো সম্ভব হবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন অসঙ্গতিপূর্ণ। এতে করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার নতুন ধাপে পৌঁছাতে পারে থাইল্যান্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *