থাইল্যান্ডের নির্বাচনকে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করলেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা

পূর্ব এশিয়া

(ব্যাংকক, থাইল্যান্ড) থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা এমনটাই মনে করছেন। এক প্রতিবেদনে তারা দাবি করেছেন, থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এ প্রক্রিয়াকে ‘অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে অনাস্থা ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আট বছর পর গত রোববারের (২৪ মার্চ) থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর এটাই প্রথম নির্বাচন। সোমবার ফলাফল ঘোষণার কথা বললেও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণাকে তিন বার বিলম্বিত করেছে থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন। কোনোবারই এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

আগামী ৯ মের আগে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। থাইল্যান্ডের ইতিহাসে নির্বাচনের পর ফল ঘোষণাকে ৪৫ দিন বিলম্বিত করার ঘটনা এবারই প্রথম। এরইমধ্যে নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। এবার আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষকরাও থাইল্যান্ডের নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছেন।

থাইল্যান্ডের নির্বাচনে নিজেদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)। সংস্থার প্রধান রোহানা হেট্টিয়ারাচচি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’ রয়েছে তা থাইল্যান্ডে মেনে চলা হয়নি। নির্বাচনি প্রস্তুতি চলার সময় থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন এমনকি ভোট গণনার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে ব্যালট গণনার জন্র যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। এ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হেট্টিয়ারাচচি জানান, নির্বাচনি প্রস্তুতি চলার সময় থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেখা গেছে সেনাবাহিনীকে। ফালাং প্রাচারাতকে ভোট দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলো তারা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিগোচর হয় না, এমন দুর্গম এলাকাগুলোতে ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

আনফ্রেলের পর্যবেক্ষণে পাওযা গেছে, একটি দরকে সুবিধা দেওযার জন্য সরকার ক্ষমতা ও সম্পদের অপব্যবহার করেছে। বিশেষ করে গ্রাম এলাকাগুলোতে এমনটা করতে দেখা গেছে। একে ভোট কেনা বলে উল্লেখ করেছে আনফ্রেল। হেট্টিয়ারাচচি আরও বলেন, ‘দেশজুড়ে সরাসরি ভোট বেচাকেনার খবর পেয়েছি আমরা। তবে কেউ প্রমাণ নিয়ে সামনে এগিয়ে আসছে না।

থাইল্যান্ডে দুই বিরোধী রাজনৈতিক দলই এখন নিজেদেরকে বিজয়ী বলে দাবি করছে। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, গণতন্ত্রপন্থী দল ফিউ থাই পার্টি ১৩৭টি আসনে জয় পেয়েছে। আর সেনাপন্থী দল ফালাং প্রাচারাত পপুলার ভোটগুলোর একটি বড় অংশ পেয়েছে। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৫০ আসন নিশ্চিত করতে পারেনি কোনও দলই। দুই দলই ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *