ভূমি দিবসের বিক্ষোভে ফিলিস্তিনি তরুণকে গুলি করে হত্যা ইসরাইলি বাহিনীর

মধ্যপ্রাচ্য

(রামাল্লা, ফিলিস্তিন) অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভূমি দিবস উপলক্ষে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। শুক্রবার গাজার ইসরাইল সীমান্তে বেশ কয়েকটি স্থানে এই বিক্ষোভ হয়। শনিবার ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের বিক্ষোভকালে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে এক ফিলিস্তিনি তরুণ। নিহত তরুণের নাম মোহাম্মদ সাদ (২১)। আহত হযেছে সহস্রাধিক।

১৯৭৬ সাল থেকে বছরের ৩০শে মার্চ ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ‘ভূমি দিবস’ পালন করছে। ওইদিন নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তাদের স্মরণে ওই বছর থেকেই ভূমি দিবস পালন করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা।

২০০৭ সাল থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। এবছর ওই দিনটি স্মরণে বিশাল বিক্ষোভের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান এবং পূর্বপুরুষের ঘর-বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ থেকে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের বিক্ষোভ শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েল সীমান্তে নিয়মিত আয়োজিত হতে থাকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ। শনিবারও তাদের কর্মসূচি ছিল।

শনিবারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে আয়োজিত মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন সাদ। ইসরায়েলি সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর তাদের দিকে ছররা গুলি ছোড়ে দেশটির সেনা সদস্যরা। এতে মাথায় গুলি লাগে সাদের। এ সময় ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে ১০০ মিটারেরও বেশি দূরে ছিলেন তিনি।

বিক্ষোভ দমনের নামে ২০১৮ সালে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘ মনে করে, এসব ফিলিস্তিনিকে হত্যার দায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা যেতে পারে। এমন অনেককে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করেছে যারা স্পষ্টতই সহিংসতায় জড়িত নয়। এদের মধ্যে শিশুরা যেমন রয়েছে শিশু, তেমনি রয়েছে চিকিৎসাকর্মী ও সাংবাদিকরাও।

এ মাসেই জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি ৩০০ জনেরও বেশি ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার এবং ড্রোনের ভিডিও ফুটেজসহ প্রায় আট হাজার প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে এমন অনেক ফিলিস্তিনি হত্যার শিকার হয়েছে বা পঙ্গুত্ববরণ করেছে যাদেরকে গুলি করার সময় তারা কারও নিশ্চিত মৃত্যুর বা কাউকে গুরুতরভাবে আহত করার ঝুঁকি তৈরি করছিল না বা সরাসরি সহিংসতায় যুক্ত ছিল না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *