‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ বিক্ষোভে ১৮৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল

মধ্যপ্রাচ্য

(রামাল্লা, ফিলিস্তিন) এ পর্যন্ত ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ১৮৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। গত বছর শুরু হওয়া এ বিক্ষোভের প্রথম সপ্তাহেই হত্যা করা হয় ৬০ জনকে। বছর শেষে তা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এ বছর গত শুক্রবার শুরু হওয়া আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর ছররা গুলিতে চারজন নিহত হয়েছে। শনিবার ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়  নিদাল সাইক (১৭) এবং মোহাম্মদ সাদ (২১) নামের দুই ফিলিস্তিনি তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। খবর মিডিল ইস্ট মনিটরের।

২০১৮ সালের ৩০ মার্চ থেকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান এবং পূর্বপুরুষের ঘরবাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের বিক্ষোভ শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা। শনিবার এর অংশ হিসেবে ইসরাইল সীমান্তে নিয়মিত আয়োজিত হতে থাকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ। এ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন সাদ ও নিদাল সাইক। ইসরাইলি সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর তাদের দিকে গুলি ছোড়ে দেশটির সেনাসদস্যরা। এতে গুলি লাগে সাদ ও নিদাল সাইকের। এ সময় ইসরাইলি সীমান্ত থেকে ১০০ মিটারেরও বেশি দূরে ছিলেন তিনি।

এর আগে ২০১৮ সালে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনিকে বিক্ষোভ দমনের নামে হত্যা করেছে ইসরাইল। এসব ফিলিস্তিনিকে হত্যার দায়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা যেতে পারে বলে মনে করে জাতিসংঘ। স্পষ্টতই সহিংসতায় জড়িত নন এমন অনেককে ইসরাইলি নিরাপত্তাবাহিনী গুলি করেছে। এদের মধ্যে যেমন রয়েছে শিশু, তেমনি রয়েছেন চিকিৎসাকর্মী ও সাংবাদিকেরাও।

এ মাসে প্রকাশিত জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেরএকটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইলি নিরাপত্তাবাহিনীর কারণে এমন অনেক ফিলিস্তিনিকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে বা পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে, যাদেরকে গুলি করার সময় তারা কারো নিশ্চিত মৃত্যুর বা কাউকে গুরুতরভাবে আহত করার ঝুঁকি তৈরি করছিলেন না বা সরাসরি সহিংসতায় যুক্ত ছিলেন না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *