ফ্রান্সে ইয়েলো ভেস্ট পরে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করছে ফরাসি পুলিশ

ইউরোপ

(প্যারিস, ফ্রান্স) ফ্রান্সে আন্দোলনকারীদের পোশাক ইয়েলো ভেস্ট পরেই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করছে ফরাসি পুলিশ। আন্দোলন ঠেকাতে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে এই পথ বেছে নিল দেশটির সরকার। এতে সরকারের নীতি নিয়ে ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই বলছেন, এতে ফরাসি গণতন্ত্র এখন হুমকির মুখে।

লাগামছাড়া জ্বালানির দাম। বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। মধ্যবিত্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষানীতি, পেনশনব্যবস্থায় পরিবর্তন। বাড়ছে ধনী-গরিবের ব্যবধান। এমন পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ফ্রান্স। ধীরে ধীরে রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। দাবি ওঠে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্রাক্রোর পদত্যাগেরও। প্রায় ২০ সপ্তাহ পার হয়ে গেছে।

গত এক দশকের মধ্যে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় এই আন্দোলনের কাছে এরই মধ্যে নতি স্বীকার করেছে সরকার। আন্দোলনকারীদের প্রায় সব দাবিই মেনে নেয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়ায় এখনও আন্দোলন থামানো সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে সশস্ত্র সেনাবাহিনী নামিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশও দিয়ে রেখেছেন নিরাপত্তা বাহিনীকে।

ইয়েলো ভেস্ট শব্দটি আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন হলেও এর ব্যাপকতা যে ভয়াবহ হতে পারে তার নিদর্শন ফ্রান্স। তুমুল বিক্ষোভ-সহিংসতার মুখে বিপর্যস্ত প্রায় ফ্রান্স। এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে। পরিস্থিতির ঘটছে ক্রমাবনতি। ফ্রান্স এখন তার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক আন্দোলনের মুখোমুখি।

এই আন্দোলনে দেশটির সামাজিক সমস্যা, অভিজাত বিরোধী মনোভাব ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের বিষয়গুলো উন্মোচন করেছে। আন্দোলনকারীরা এখন সামাজিক ন্যায়বিচার চাইছে। এই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর ভর করে পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহিংসতা দমনে সফল হতে পারছে না। এই আন্দোলন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

 গত ১৭ নবেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলনে ট্যাক্সি চালকদের ব্যবহৃত হলুদ জ্যাকেট পরে প্রতিবাদকারীরা অংশ নেয়ায় এই আন্দোলনের নাম দেয়া হয় ‘ইয়োলো ভেস্ট’ বা ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের সহিংসতায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে সহিংসতা, লুটতরাজ এবং বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও ভাস্কর্য ভাঙ্গা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *