ইয়েমেন যুদ্ধের ৫ বছর: সৌদির বিরুদ্ধে দেয়ালে দেয়ালে নাগরিকদের ক্ষোভ

মধ্যপ্রাচ্য

(সানা, ইয়েমেন) উত্তর ইয়েমেনের একটি ঘুপচি গলি। তারই দেয়ালে আজব এক গ্রাফিতি আঁকা। জার্সি গাইয়ের আদলে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। আর পাশে টুলে বসে দুধ দুইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই দুধ জমা হচ্ছে সোনালি পাত্রে, যেগুলোর গায়ে ডলারের প্রতীক আঁকা। অঙ্কন স্পষ্ট, বার্তাও স্পষ্ট। পর্যবেক্ষকদের মতে, দেয়ালে ফুটে ওঠা এই গ্রাফিতিই বলে দিচ্ছে গত চার বছর ধরে ইয়েমেনের মাটিতে চলা যুদ্ধকে কোন চোখে দেখছে সেখানকার আম আদমি। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে সৌদির বিরুদ্ধে ইয়েমেনিদের এ ক্ষোভ উঠে এসেছে।

নব্ব্ইয়ের দশক থেকে হুথি আন্দোলন চলে আসছে উত্তর ইয়েমেনে। গত কয়েক বছরে তা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। শাসক-বিরোধী এই আন্দোলন দমাতে আসরে নেমেছে আমেরিকা-সৌদি জোট। জোটের পুরোভাগে মূলত সৌদি। যুদ্ধজাহাজ, বোমা থেকে শুরু করে ট্যাঙ্কার, বন্দুক, গাড়ি – এই যুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি বাহিনী যে সব সমরাস্ত্র ব্যবহার করছে তার প্রায় সবই আমেরিকার দেয়া।

সব থেকে বেশি সমরাস্ত্র সৌদি ওয়াশিংটনের কাছ থেকেই কেনে। এই হানায় শুধু যে বিদ্রোহীদের মৃত্যু হচ্ছে এমনটা নয়। শয়ে শয়ে নিরীহ মানুষ প্রতিদিন শেষ হয়ে যাচ্ছেন এভাবেই। কিছু দিন আগে বোমার আঘাতে একটি স্কুল বাসের ভিতরে থাকা ৪০টি বাচ্চার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সেই বোমাও ছিল আমেরিকারও দেয়া। হুথিরা মনে করে, মার্কিন অস্ত্রের জোগান না থাকলে শাসকের জোট কখনও এ ভাবে নিধন-যজ্ঞ চালাতে পারত না।

এমন অবস্থায় আমেরিকার বিরুদ্ধে সাধারণ ইয়েমেনবাসীর ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। যুদ্ধের চার বছর পূর্ণ হওয়ার দিন পথে নামে সাধারণ মানুষ। ঝলসানো রোদকে উপেক্ষা করে। প্রত্যেকের মুখে একটাই প্রশ্ন, ‘আর কত রক্ত পেলে এই যুদ্ধ বন্ধ হবে?’ আলি খামাশ নামে এক শিক্ষক তো সাংবাদিককে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। চিৎকার করে বলতে শুরু করলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের খুন করছে আমেরিকা। স্কুলে মারছে, বিয়েবাড়িতে মারছে, পার্কে মারছে, রাস্তায় মারছে। সৌদি হামলা চালালেও আমরা জানি কে আমাদের খুন করছে। সবাই আমেরিকাকেই খুনি বলে মনে করছে।’

সম্প্রতি সৌদি আরবকে যুদ্ধে সহায়তায় কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সেনেট। এ খবরও বিশেষ আশ্বস্ত করতে পারল না তাকে। যুদ্ধ-বিরোধী মিছিলে অংশ নেওয়া ইংরাজি শিক্ষক আবদেল মন্তাসেরের কথায় উঠে এল সেই দেওয়াল লিখনের সুর। তিনি বললেন, ‘আমেরিকা নিজের ফায়দার কথা ভাবছে। আরব দেশগুলি বড়লোক। ট্রাম্পের আমেরিকা ওদের দুইয়ে নিতে চাইছে।’

গত চার বছর ধরে যন্ত্রণার দিন-রাত কাটাচ্ছে ইয়েমেন। প্রতি মুহূর্তে আশঙ্কা, এই বুঝি হামলা হল। উত্তর ইয়েমেনের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এলাকায় বর্তমানে একটি মাত্র হাসপাতাল বেঁচে রয়েছে। বোমার আঘাত গায়ে লাগলেও পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। এই হাসপাতালের মতোই শেষ হওয়ার অপেক্ষায় এখানকার মানুষ। – সংবাদসংস্থা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *