লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: মোদির সভায় লোক টানতে নোট ছিটাচ্ছে বিজেপি

ভারত লিড নিউজ

(নয়াদিল্লি, ভারত) রাজ্যে রাজ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সভা-সমাবেশ- র‌্যালির আয়োজন চলছে জোরতালে। কিন্তু লোক জুটছে না। দলের শেষ মুহূর্তের এ প্রচারণায় জনসমাগম বাড়াতে বাধ্য হয়েই তোড়া তোড়া নোট ছিটাচ্ছে বিজেপি। সব কেন্দ্রেই টাকা ঢালছে ‘নমো-দল’। অভিযোগটা ছিল শুরু থেকেই। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজ্যে ‘ভোট-ঘুষের’ জলজ্যান্ত প্রমাণ মেলায় তা আরও পাকাপোক্ত হয়ে উঠেছে।

বুধবার অরুনাচল প্রদেশের পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাট ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগের দিন মঙ্গলবার ছিল অরুনাচলে জনসভা। গুঞ্জন ওঠে সভায় লোকসমাবেশ বাড়াতে আগে থেকেই কড়ি ছিটানো শুরু করেছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। প্রমাণও মিলল হাতে হাতে। গভীর রাতে অরুনাচলে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রেমা খান্ডুর গাড়িবহর থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করল পুলিশ।

নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী ব্যয় পর্যবেক্ষণ সংস্থার কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে ওই অর্থের চালান আটক করেন। সকালেই পাসিঘাটে মোদির সভায় ভোটারদের এ অর্থ ঘুষ দেয়ার কথা ছিল। একই ঘটনা ফাঁস হল পশ্চিমবঙ্গেও। কলকাতার ব্রিগেড ময়দানের জনসভায় ৪টি ট্রেনে লোক এনেছে বিজেপি। রেলের ভাড়ার ৫৩ লাখ রুপি দেয়া হয়েছে বিজেপির দলীয় ফান্ড থেকেই। পশ্চিমবঙ্গের রেল কর্মকর্তারা এ তথ্য স্বীকার করেছেন।

এত কিছু করেও সভায় লোক আনা যাচ্ছে না। রোববার বিজেপির উত্তর কাশ্মীর জনসভা এর জ্বলন্ত প্রমাণ। রাজ্যের তিনটি আসনের নেতাকর্মীরা তাদের যৌথ প্রচারণা সভায় সবমিলিয়ে মাত্র ৭৮ জনকে দেখাতে সমর্থ হয়েছেন। দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কয়েকটি প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সময় ভোটারদের ঘুষ দিয়ে প্রভাবিত করার রীতি পুরনো। এক্ষেত্রে নানা উপহারসামগ্রী, টাকা ও মদকে হাতিয়ার বানান প্রার্থীরা। ভোট কিনতে আগামী এক মাসের মধ্যে হাজার হাজার কোটি রুপি ছিটানো হবে। নির্বাচন কমিশনও বেশ কঠোর ভূমিকায় রয়েছে। তারা প্রার্থীদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। নজরদারি চালাচ্ছেন ভারতের আয়কর দফতর ও শুল্ক দফতরের গোয়েন্দারাও।

এর অংশ হিসেবে আগেই হাতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অরুনাচলে অভিযান চালায় নির্বাচন কমিশনের একটি নজরদারি দল। বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা রনদ্বীপ সিং সুর্যেওয়ালা অভিযানের দুটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাতে দেখা যায়, নির্বাচনী ব্যয় পর্যবেক্ষণ সংস্থার কর্মকর্তারা পেমা খান্ডুর বহরের একটি গাড়ি থেকে ৫০০ রুপির নোটের অসংখ্য বান্ডিল বের করছেন। এতে ১ কোটি ৮০ লাখ রুপি ছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিজেপির এ কেলেঙ্কারিকে ভারতের ‘গণতন্ত্রের এক কলঙ্কজনক দিন’ বলে আখ্যায়িত করেছে কংগ্রেস। এ ঘটনায় মোদিকে ‘এক হি চৌকিধার চোর হে’ অর্থাৎ ‘চৌকিদার মোদি একজন চোর’ বলে কটাক্ষ করে অরুনাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

সেই ২০১৪ সালের ভোটের সময় ভোট চাইতে কলকাতায় এসেছিলেন মোদি। ৫ বছর পর বুধবার ফের কলকাতায় পা রাখেন তিনি। তাই শহরের ব্রিগেড ময়দান ভরতে লোক আনার জন্য চারটি বিশেষ ট্রেন ভাড়া করে বিজেপি। খরচ হয় প্রায় ৫৩ লাখ রুপি। কিন্তু ট্রেনগুলো পুরো ভরা তো দূরের কথা, একটা কামরাও পূর্ণ হয়নি। রাজ্যের ঝাড়গ্রাম, লালগোলা, পুরুলিয়া, রামপুরহাট- এ চারটি জায়গা থেকে ট্রেনগুলো রওয়ানা হয়।

বিজেপি নেতারা দাবি করেছিলেন, ব্রিগেড ময়দানের সমাবেশে উপস্থিতির রেকর্ড হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র তাদের মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভোর ৪টার সময় ট্রেন হাওড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও লোক হয়নি দেখে ট্রেনের সময়সূচি পিছিয়ে দেয়া হয়। সকাল পৌনে ৭টা নাগাদ ট্রেন ছাড়ে। কিন্তু প্রত্যেক ট্রেনে বড় জোর ১৫০ করে লোক ছিল।

অনুপস্থিতির দিক দিয়ে কাশ্মীরের সভায় বলতে গেলে বিজেপি রেকর্ড গড়েছে। রোববার রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে রাফিয়াবাদ এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় সর্বসাকুল্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৭৮ জন। রাজ্য বিজেপির নেতা মোহাম্মদ মকবুল ওয়ারের জন্য এটা বেশ লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ র‌্যালিতে যোগ দেয়া মানুষের চেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যাই বেশি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *