ব্রুনাইয়ের সমকামিতাবিরোধী ইসলামিক আইন মানবাধিকারের লঙ্ঘন: জাতিসংঘ

মধ্যপ্রাচ্য

(নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র) ব্রুনাই সমকামিতা এবং ব্যাভিচারের জন্য পাথর ছুড়ে হত্যার মতো কঠোর ইসলামিক আইন বাস্তবায়ন করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তনিও গুতেরেস মনে করেন, যে কোনোখানে কোনোরকম বৈষম্য না করে প্রতিটি মানুষের জন্যই মানবাধিকার সমুন্নত রাখা উচিত। অনুমোদিত আইনটি এই নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

ব্রুনাই বুধবার সমকামিতা, বিবাহ বহিভূত যৌন সম্পর্ক এবং ধর্ষণের জন্য ওই কঠোর ইসলামিক শরীয়া আইন চালুর ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে চুরির জন্য অঙ্গচ্ছেদের মত বর্বর শাস্তিও চালু করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনানুযায়ী, যে কোনো পরিস্থিতিতে পাথর ছোড়া, অঙ্গচ্ছেদ অথবা বেত্রাঘাত, আইনি সংস্থাগুলোর হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনসহ সব ধরনের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ।

স্বাক্ষর করলেও ব্রুনাই এখনও নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক শাস্তির বিষয়ে ঘোষণাপত্র অনুমোদন করেনি। ২০১৪ সালে জাতিসংঘে দেশটির মানবাধিকার সংক্রান্ত পর্যালোচনায় ওই ঘোষণাপত্রের সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে অস্বীকার করে তারা।

এদিকে ওই আইনের প্রতিক্রিয়ায় রুনাই সুলতানের মালিকানাধীন হোটেল বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন হলিউড অভিনেতা ও যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসের কর্মকর্তারা। সুলতান শাসিত দ্বীপ রাষ্ট্র ব্রুনাই অর্থনৈতিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ। দেশটির সুলতান বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষ হোটেলের মালিক। এর মধ্যে সবচেয়ে অভিজাত ৯ টি হোটেলের দু’টিতে হলিউডের হেভিওয়েটদের আনাগোনা আছে, সময়ে সময়ে সেখানে বিনোদোনমূলক বিশেষ অনুষ্ঠানও হয়। এর একটি হচ্ছে বেভারলি হিলস এবং লস এঞ্জেলেসের হোটেল বেল-এয়ার।

অন্যান্য হোটেলগুলোর মধ্যে আছে লন্ডনের ডর্চেস্টার এবং প্যারিসের হোটেল প্লাজা এথিনি। হোটেল বয়কটের ডাক দিয়েছেন হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনি। তিনি এক টুইটে লিখেছেন, ‘যতবারই আমরা ৯টি হোটেলের কোনোটাতে থাকি, বৈঠক করি কিংবা খাওয়া দাওয়া করি ততবারই আমরা সরাসরি এমন একজন মানুষের পকেটে অর্থ ঢালি যিনি তার দেশের নাগরিকদেরকে সমকামিতা কিংবা ব্যাভিচারের অভিযোগে পাথর ছুড়ে কিংবা বেত্রাঘাত করে মৃত্যু দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *