ভারত-মিয়ানমার থেকে দেশে মাদক আসছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ লিড নিউজ

(ঢাকা, বাংলাদেশ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমাদের দেশে মাদক তৈরি হয় না। এসব ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসে। এক সময় ভারত থেকে ফেন্সিডিল আসতো। আমরা তাদের সীমান্তে কারখানাগুলো চিহ্নিত করে তাদের বলি। পরে তারা সেসব কারখানা বন্ধ করে দেয়। আর মিয়ানমার অনেক কথাই বলে। কিন্তু পালন করে না। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানায় এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর মানব জমিনের।

বর্তমান দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ লাখ। কোনো কোনো সংস্থার মতে ৭০ লাখ। নব্বইয়ের দশকে যার পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ১০ লাখেরও কম। মাদকসেবীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই যুবক, তাদের ৪৩ শতাংশ বেকার। ৫০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। কিছুদিন আগেও যারা ফেনসিডিলে আসক্ত ছিল তাদের অধিকাংশিই এখন ইয়াবা আসক্ত। সম্প্রতি  ইয়াবা আমাদের দেশের তরুন যুবসমাজকে গ্রাস করেছে। প্রতিদিন যেমন ইয়াবা ধরা হচ্ছে তেমনি প্রতিদিন হাজার হাজার পিস ইয়াবা তরুনরা গ্রহণ করছে।

সীমান্তে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এদিন বিজিবি সদর দফতরে বসে মতবিনিময় সভা। ‘মাদক ও মানব পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক সভায় বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও বিভাগীয় কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ৩২টি এলাকার জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে প্রধান সমস্যা মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান। এসব প্রতিরোধে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেও প্রতিনিয়ত আসছে মাদক, অস্ত্রসহ অন্যান্য চোরাচালান। তাই সীমান্তে পথে আসা এসব চালান বন্ধ করতে সীমন্তে আরো কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

দুই মাস ধরে সীমান্ত হত্যা বেড়ে গেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কারণে সীমান্ত হত্যা বেড়েছে। এটা আমাদের (সীমান্তবর্তী বাসিন্দা) ভুলের কারণেই। তবে সীমান্ত হাট আমাদের প্রয়োজন না হলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, বিজিবি গৃহস্থের গোয়ালে গিয়ে বা বাজারে গিয়ে আর গরু চেক করবে না। কোন দেশ  থেকে এসেছে, তা পরীক্ষা করবে না। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির যে কাজ, তারা সেটুকু করবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অনেকে বলেন, বিজিবি অনেক সময় অতি উৎসাহী হয়ে কিছু কাজ করে ফেলে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা  দেয়া হলো।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সীমান্ত এলাকায় রাস্তার ব্যবস্থা, বিদ্যুতের ব্যবস্থা, বিজিবি ক্যাম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি, সীমান্ত পাহারায় বিজিবি সদস্যদের মোটরসাইকেল দেয়া ও তাদের যথাযথ বাসস্থানের ব্যবস্থা করলে মাদক আসা বন্ধ হবে। মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে সুপারিশকারী নেতার বিরুদ্ধে মামলাসহ দ্রুততর সময়ে মাদক মামলা নিষ্পত্তির দাবি জানান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, তার এলাকা (সীমান্ত) দিয়ে আগে মাদক  আসতো, কিন্তু এখন আসা কমে গেছে। তবে মাদক ও অস্ত্র সীমান্তের অন্য পয়েন্ট দিয়েই আসছে।

মৌলভীবাজার-২ আসনের এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর তার বক্তব্যে বলেন, ঘন ঘন প্রতিবেশী দেশের সাথে বসলে সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান হ্রাস পাবে। এতে সীমান্ত অপরাধ কমে আসবে এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।

পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, অস্ত্র পাচারের বিষয়টি বিশাল। হলি আর্টিসান হামলার অস্ত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে ওপর থেকে এসেছে। আর সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে টহল দিলে মাদক পাচার কমে আসবে। দিনাজপুরের এক এমপি বলেছেন, পুলিশ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে অনুষ্ঠান করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইজিপি বলেন, কোন পুলিশ সদস্য এমনটি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ বলেন, সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক, অস্ত্র প্রতিরোধে র‌্যাব কাজ করছে। তবে ঝুলে থাকা মাদক মামলা নিষ্পতি করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করে এর সমাধান করার পক্ষে মত দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *