রুয়ান্ডা গণহত্যার ২৫ বছর পূর্তিতে ১০০ দিনের শোক পালন শুরু

আফ্রিকা লিড নিউজ

(কিগালি, রুয়ান্ডা) মানবতার এক কলঙ্কিত অধ্যায় রুয়ান্ডা গণহত্যার ২৫ বছর পূর্তি পালিত হচ্ছে। এক সপ্তাহব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করতে শুরু করেছে রুয়ান্ডাবাসী। একশ দিন ধরে ১৯৯৪ সালের সেই গণহত্যার ঘটনা স্মরণে চলবে শোক। এ সময়ের ব্যবধানেই দেশটিতে নিহত হয়েছিল ৮ লাখ মানুষ।

২৫ বছর আগে এ গণহত্যার শিকার হওয়া অধিকাংশই ছিল সংখ্যালঘু তুতসি সম্প্রদায়ের মানুষ। হুতু সম্প্রদায় চালিয়েছিল এ হত্যাযজ্ঞ। রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে রোববার রাজধানী কিগালির স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে শোকদিবসের সূচনা করেছেন। ১০০ দিন ধরে জ্বলবে এ শিখা। আলো জ্বালানোর পাশাপাশি স্তম্ভে ‍পুস্পস্তবক অর্পন করেন প্রেসিডেন্ট। এরপর কিগালির সভাস্থলে বক্তব্যও রাখেন তিনি।

ওই গণহত্যা দেশকে আরো একতাবদ্ধ করেছে এবং যা ঘটেছে তা আর কখনো ঘটবে না বলে ভাষণে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট পল কাগামে। দিবসটি পালন উপলক্ষে এদিন বিকালে প্রায় ২ হাজার মানুষের একটি মোমবাতি মিছিলেরও আয়োজন করা হয় । পার্লামেন্ট থেকে ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়াম পর্যন্ত সে মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে কর্মকর্তারাসহ প্রেসিডেন্টেরও।

রুয়ান্ডা গণহত্যার এ বর্ষপূর্তিতে বিদেশের কয়েকটি দেশের নেতদেরও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

যেভাবে ঘটেছিল রুয়ান্ডার গণহত্যা:

১৯৯৪ সালের ৬ এপ্রিলে তৎকালীন হুতু প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানাকে বহনকারী বিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হলে আরোহীরা সবাই মারা যান। এ ঘটনার জন্য হুতু চরমপন্থিরা তুতসি বিদ্রোহী গ্রুপ রুয়ান্ডান প্যাট্রিওটিক ফ্রন্ট (আরপিএফ) কে দায়ী করে। তবে তুতসিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

এ ঘটনার পরই শুরু হয় ধ্বংসলীলা। প্রেসিডেন্টকে কে হত্যা করেছে সেটি তখনো প্রমাণিত না হলেও তা দমিয়ে রাখতে পারেনি প্রেসিডেন্টের অনুগত বাহিনীকে। একে একে বিপক্ষ সব রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ তুতসিদেরকে হত্যা করতে শুরু করে প্রেসিডেন্ট সমর্থক হুতু বাহিনী।

বেতার সম্প্রচারে হুতুদেরকে সব তুতসিদেরকে মারার নির্দেশও দেয়া হয়। শুরু হয় গণহত্যা।  তুতসি অধুষ্যিত এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাপাতি এবং বন্দুক নিয়ে হামলা হয়। কুপিয়ে এবং গুলি করে মারা হয় লাখ লাখ তুতসিকে, বাদ যায়নি চার্চে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *