ঐতিহাসিক আল আহমার মসজিদকে নাইটক্লাব বানিয়েছে ইসরাইল

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(সাফেদ, ইসরাইল) ঐতিহাসিক আল আহমার মসজিদকে নাইটক্লাব ও মদের বারে পরিণত করেছে ইসরাইল। দেশটির আরব বসতি এলাকা সাফেদ উপসহরে মসজিদটির অবস্থান। অন্যান্য আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক মসজিদের সঙ্গে ১৯৪৮ সালে এই মসজিদটিও দখল করে নেয় ইসরাইলি দখলদাররা। এটাকে প্রথমে একটা স্কুলে, এরপর ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা কেন্দ্র, তারপর কাপড়ের গুদাম এবং অবশেষে নাইটক্লাব বসানো হল। লন্ডনভিত্তিক আল কুদুস আরাবির বরাত দিয়ে মিডিল ইস্ট মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

আল কুদস জানিয়েছে, সাফেদ মিউনিসিপালিটি সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানি সম্প্রতি মসজিদকে নাইটক্লাব ও কমিউনিটি সেন্টার বানিয়েছে। আল আহমার মসজিদ নাম বদলের এর নাম দেয়া হয়েছে খান আল আহমার। শহর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে নাজারেথ আদালতে মামলা করেছে স্থানীয় মুসলিমরা। সাফেদ অ্যান্ড তিবারিয়াস এনডোমেন্টের সেক্রেটারি খায়ের তাবারি বলেন, মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন মুসলিমরা।

এর আগে স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার মুসলমানের নামাজের কোনো জায়গা না থাকলেও একটি ঐতিহাসিক মসজিদকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে ইসরাইল। ইসরাইলি কতৃপক্ষ বির আল-সাবে গ্রান্ড মসজিদকে জাদুঘর বানিয়েছে। যদিও ওই এলাকায় মুসলমানদের দৈনন্দিন প্রার্থনার কোনো জায়গা নেই।

১৯০৬ সালে অটোমান শাসনামলে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি নাকবার সময় এটিকে হাজতখানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৫৩ সালে এটিকে জাদুঘর বানানো হয়। ১৯৯২ সালে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়লে মসজিদটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

বির আল-সাবে ওই এলাকার একমাত্র মসজিদ। দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানেরা মসজিদটি খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা বলছেন, অন্তত জুমার নামাজের জন্য হলেও সেটি যেন খুলে দেয়া হয়। ২০১৫ সালের জুন নাগাদ জাদুঘরের প্রদর্শনী শুরু হওয়ার কথা রয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *