লোকসভার ৩য় দফায়ও একই অভিযোগ; ইভিএম কাজ করছে না, ভোট যাচ্ছে বিজেপিতে

ভারত

(নয়াদিল্লি, ভারত) প্রথম ও দ্বিতীয় দফার চেয়ে অনেকটা শান্তিতেই শেষ হল ভারতের লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফার ভোট। হামলা-সংঘর্ষের ঘটনাও ছিল কম। মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম, একজন। তবে তৃতীয় দফায়ও সেই একই অভিযোগ- ‘সারা ভারতেই ইভিএম সঠিকভাবে কাজ করছে না। ভোট দিলেই চলে যাচ্ছে বিজেপিতে।’ ঠিকমতো কাজ না করায় কয়েকশ’ ইভিএম বদলানোর খবর এসেছে। এবার ইভিএম সমস্যার অভিযোগ এনেছেন উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির (সপা) প্রধান অখিলেশ যাদব। কেরালার বিজেপি জোট প্রার্থীর মুখেও একই অভিযোগ- ইভিএম ঠিকমতো কাজ করছে না।

এছাড়া উত্তর প্রদেশে ভোট কেন্দ্রে ঢুকে এক পোলিং অফিসারকে মারধর করেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতাকর্মীরা। ভোটগ্রহণকালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষে এক কংগ্রেসকর্মী নিহত হয়েছেন। এ রাজ্যের কয়েকটি বুথে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বিজেপির হয়ে ভোট চেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় তৃতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ। এ পর্বে দেশজুড়ে ১৩টি রাজ্য ও ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ১১৬টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যগুলোর ভোটার টার্নআউট ছিল ৬১.৩১ শতাংশ। এ পর্বে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে ৭৮.৯৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট জম্মু-কাশ্মীরে মাত্র ১২.৪৬ শতাংশ। আসাম, বিহার ও ছত্তিশগড়ে ভোটের হার যথাক্রমে ৭৪, ৫৪.৯৫ ও ৬৪.০৩ শতাংশ। দক্ষিণের রাজ্য কেরালা ও কর্নাটকে ভোট পড়েছে ৬৮.৬২ ও ৬০.৮৭ শতাংশ। উত্তর প্রদেশে ৫৬.৩৬ শতাংশ।

ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইভিএম নষ্ট হওয়ার অভিযোগ আসতে থাকে। গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, কেরালা ও বিহারের ৩৫০টির বেশি ইভিএম কাজ করেনি। ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাটেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সপার নেতা অখিলেশ যাদব এক টুইটারে বলেন, ‘দেশজুড়ে হয় ইভিএম কাজ করছে না নয়তো বিজেপিতে ভোট চলে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকরা স্বীকার করছেন, পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। ৩৫০টির বেশি ইভিএম বদলানো হয়েছে। এটা চরম অপরাধমূলক অবহেলা, যেখানে নির্বাচনে ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়।’

ইভিএমে ভোট বদলে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি জোটের প্রার্থীও। কেরালার ওয়ানাড়ে রাহুল গান্ধীর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী তুষার ভেলাপল্লি রাজ্যের নির্বাচনী অফিসারকে জানিয়েছেন, ইভিএমে কেউ দু’বার বোতাম টিপলেই বদলে যাচ্ছে ভোট। পার্শ্ববর্তী তিরুঅনন্তপুরম আসনেও সব ভোট বিজেপিতে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। উত্তর প্রদেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বাগড়া দিয়েছেন বিজেপির কর্মীরা। এদিন রাজ্যের মোরাদাবাদ আসনে একটি বুথে ঢুকে পোলিং অফিসারকে মারধর করেছেন তারা। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনার জেরে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

১ম ও ২য় পর্বের ভোটে সংঘর্ষ হলেও কেউ মারা যায়নি পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু ৩য় দফার রাজ্যের মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় কংগ্রেস-তৃণমূল সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও ২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু সেই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই উঠল সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ।

বুথে বুথে বিজেপির পক্ষে ভোট চাইছিলেন বাহিনীর সদ্যসরা। অভিযোগ এনেছেন স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন মালদহের ইংরেজবাজার ও ইটাহারে বেশ কয়েকটি বুথে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের বিজেপিকে ভোট দিতে বলছিলেন বাহিনীর জওয়ানরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *