শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার পেছনে কোটিপতি ব্যবসায়ীর পরিবার: ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি

পূর্ব এশিয়া

(কলম্বো, শ্রীলংকা) শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সিরিজ বিস্ফোরণের ঘটনায় আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে উঠে আসছে দেশটির এক কোটিপতি ব্যবসায়ীর পরিবারের নাম। অভিজাত ওই লংকান ব্যবসায়ীর নাম ইনসাফ আহমদ ইব্রাহিম। তার স্ত্রী ফাতিমা ইব্রাহিমেরও ওই হামলায় যোগসাজশ ছিল। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, ইনসাফের তামার কারখানাতেই হামলায় ব্যবহৃত বোমাগুলো তৈরি করা হয়েছে। হামলার দিনই গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে কারখানা ব্যবস্থাপকসহ নয়জনকে গ্রেফতার করে নিরাপত্তা বাহিনী। খবর রয়টার্সের।

ইতোমধ্যে আইএসের পক্ষ থেকে এ হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। হামলাকারী হিসেবে জঙ্গিরা নিজেদের আট সদস্যের ছবিসহ যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, তাতে ইনসাফ আহমদ ইব্রাহিমের স্ত্রী ফাতিমাও রয়েছেন। এতে দেখা যায়, এক সারিতে সাতজন এবং পেছনে আরেকজন দাঁড়িয়ে আছেন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি হচ্ছেন ফাতিমা; আর তার ঠিক সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী ইনসাফ আহমদ ইব্রাহিম। ইনসাফ আহমদ ইব্রাহিম নিজেই পাঁচতারকা শাংগ্রিলা হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটায়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হিসেবে রাজনীতিকদের সঙ্গে সখ্য ছিল ইনসাফের। তার বাবা খ্যাতনামা মসলা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ ইব্রাহিম এক সময় বামপন্থি দল জনতা ভিমুখী পেরামুনা পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কার বর্তমান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ঋষথ বাথিউডেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাক্ষের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

হামলার পর তদন্তের জন্য ইনসাফ আহমদ ইব্রাহিমের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ছয় পুত্র ও তিন কন্যার জনক মোহাম্মদ ইউসুফ শ্রীলঙ্কা ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ফাতিমা ফাজলা নামে তার একজন প্রতিবেশী জানান, গরিব মানুষদের খাবার ও অর্থ সহায়তার জন্য তিনি এলাকায় বেশ বিখ্যাত ছিলেন। তার সন্তানরা এমন কাজ করতে পারে, এটা অকল্পনীয়।

সিরিজ বিস্ফোরণের পর রাতেই ইনসাফ আহমদ ইব্রাহিমের অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, পুলিশি অভিযানকালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় ইনসাফের ছোট ভাই ৩১ বছরের ইলহাম ইব্রাহিম। এতে ইলহাম ছাড়াও ইনসাফের অন্তসত্ত্বা স্ত্রী ফাতিমা ও তার তিন সন্তান নিহত হয়। বর্তমানে ক্রাইম সিন লেখা ফিতা দিয়ে বাড়িটি ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

ইনসাফ আহমদ ইব্রাহিমের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দৃশ্যত তারা সজ্জন মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিল। ইনসাফের বাসার বিপরীত পাশে থাকা পরিবারের সদস্য ফাতিমা ফাজলা রয়টার্সকে বলেন, তাদের ভালো মানুষ হিসেবেই প্রতীয়মান হত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *