শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী হামলা: ব্যর্থতার দায় নিয়ে পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ

পূর্ব এশিয়া

(কলম্বো, শ্রীলংকা) শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন দেশটির পুলিশ প্রধান পুজিথ জয়াসুন্দরা। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার নির্দেশ পাওয়ার দুইদিন পর শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। একই অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোও প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। হিন্দুস্তান টাইমস খবরটি জানিয়েছে।

২১ এপ্রিলের ওই হামলার ব্যাপারে আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও তা প্রতিহত করার ব্যর্থতা নিয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা চলছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা দাবি করেছেন, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা প্রধানরা হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে তাকে আগে থেকে কিছু জানায়নি। আগাম তথ্য থাকার পরও হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২৪ এপ্রিল দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দো এবং পুলিশ প্রধান পুজিথ জয়াসুন্দরাকে পদত্যাগেরনির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার লঙ্কান প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা জানান, পুলিশ প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আইজিপি পদত্যাগ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। আমি শিগগিরই নতুন একজন আইজিপিকে মনোনীত করব।’

গত বছর একটি রাজনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কায় বিভাজন দেখা গিয়েছিল। তখন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে স্থলাভিষিক্তের প্রচেষ্টা চালানোর পর ওই রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। অবশ্য, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে ডিসেম্বরে বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহাল করা হয়। তবে তারপরও সরকারের ভেতরে যোগাযোগগত ব্যর্থতা থেকে যাওয়ার ইঙ্গিতই সামনে এসেছে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-সতর্কতা সত্ত্বেও বিস্ফোরণের ঘটনায় সে দেশের সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার খবরটি জোরালোভাবে প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে হামলা-পূর্ববর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার পূর্ব দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য বলছেন,প্রধানমন্ত্রী হামলার ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলেন। সরকারের আরেক মুখপাত্রের বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অগ্রাহ্য করার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা হামলার নেপথ্য কারণ হিসেবে সরকারের দুই অংশের এই বিভাজনকে দায়ী করছেন।

শ্রীলঙ্কার সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্টই প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়ক। একইসঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। অথচ তার দাবি অনুযায়ী,তার কাছে হামলার আগাম কোনও তথ্য ছিল না। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমেসিংহের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি বলেন,তার জন্যই গোয়েন্দা সংস্থা দুর্বল হয়ে গেছে। তারা তামিল টাইগারদের সময় যুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক কর্মকর্তাদের সাজা নিয়েই বেশি ব্যস্ত।

উল্লেখ্য, রবিবার (২১ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ৩৫৯ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হলেও শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সে সংখ্যা ভুল বলে জানায় লঙ্কান কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা ২৫৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *