পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশে পুলিশে নিয়োগ পাবে তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়ারা

পূর্ব এশিয়া

(ইসলামাবাদ, পাকিস্তান) পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ প্রধান সৈয়দ কলিম ইমাম হিজড়াদের পুলিশে নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন৷ অন্যান্যদের মতোই তাদের সমান সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে৷ ২০০৯ সালে পাকিস্তানে হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বলে আইনগত স্বীকৃতি দেয়ার পর এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। সৈয়দ কলিম ইমাম বলেন, ‘তারা (হিজড়ারা) আল্লাহর অন্যতম সুন্দর সৃষ্টি। আমাদের মতোই এ দেশের নাগরিক। তাদের পাশে আমাদের দাড়াতে হবে।’

টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশে খুব শিগগিরেই পুলিশের ইউনিফর্মে দেখা যাবে হিজড়াদের। অন্যান্য নারী কিম্বা পুরুষ পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন তারা। এছাড়া অন্যান্য চাকরিতেও তারা নিয়োগ পাবে বলেও জানিযেছে পাক সরকার।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৃতীয় লিঙ্গের বা হিজড়াদের অবস্থান দৃঢ় হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ২০১১-১২ সালে তৃতীয় লিঙ্গের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি সর্বপ্রথম হিজড়া জনগোষ্ঠীকে অনির্ধারিত লিঙ্গ হিসেবে জন্ম সনদ নিবন্ধনের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়। ভারত ২০১৪ সালের এপ্রিলে তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেয় এবং পাকিস্তান সরকারও ২০০৯ সালে হিজড়াদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন করে।

ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে অনেক আগেই থার্ড জেন্ডারদের পরিচয় স্বীকার করে তাদের ভোটাধিকার ও কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে হিজড়াদের সমাজের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর তাদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এরপর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ‘হিজড়া’ নামেই সম্বোধন করা হয়। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা ২০ থেকে ৫০ হাজার। কারো কারো মতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *