‘মুসলিম ব্রাদারহুড’কে সন্ত্রাসী ঘোষণা দিতে ট্রাম্পকে সিসির অনুরোধ

আফ্রিকা

(ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র) মিশরের নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিযেছেন মিসরের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। গত মাসের ৯ এপ্রিল ওয়াশিংটন সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে এই অনুরোধ জানান তিনি। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) নিউ্য়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মুসলিম ব্রাদারহুড সন্ত্রাসী তকমা দিতে কাজ শুরু করেছে হোয়াইট হাউস।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানায়, মিসরের প্রাচীনতম ইসলামি আন্দোলনকারী সংগঠনের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হতে যাচ্ছে। খুব শিগগিরি তা বাস্তবায়ন করা হবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারাহ সানদার এক ই-মেইল বার্তায় বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা দলের প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। মূলত সেখানেই তাদের মধ্যে এ বিষয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। যে কারণে এবার তাদের একটি সন্ত্রাসী তকমা লাগানোর বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কাজ চলছে।’

এর আগে ২০১৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সেনা অভ্যুত্থানের শিকার হন। তখন তৎকালীন সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে করা সেনা অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

মূলত এসবের প্রতিবাদে গত বছরের ১৪ আগস্ট রাক পথে নামে মিসরীয় জনগণ। যদিও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, এবারের বিক্ষোভের প্রথম দিকে প্রায় ৮৫ হাজারের বেশি জনগণ অংশ নেন। পরে ৪৫ দিন যাবত চলা এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। যা এখনও অব্যাহত আছে।

অপরদিকে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে কায়রোর রাবা আল আদাবিয়া এবং তাহরির স্কয়ারে এসে সমবেত হন প্রায় লক্ষাধিক জনগণ। যদিও শান্তিপূর্ণ সেই বিক্ষোভের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নির্বিচারে সহিংস অভিযান চালায়।এতে প্রায় কয়েক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী হতাহত হন। মূলত এর পরপরই পুলিশের চালানো সাঁড়াশি অভিযান গ্রেফতার করা হয় ‘মুসলিম ব্রাদারহুডে’র সমর্থকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *