ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জে নিহত ৬

বাংলাদেশ

(ঢাকা, বাংলাদেশ) ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে কিশোরগঞ্জে শুক্রবার দিনভর বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে।  এ সময় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিশু ও নারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। এছাড়া গরু মারা গেছে একটি। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। খবর মানব জমিনের।

বজ্রপাতে নিহত ছয় জনের মধ্যে পাকুন্দিয়ায় তিনজন, মিঠামইনে দুই জন এবং ইটনায় একজন রয়েছে। তাদের মধ্যে পাকুন্দিয়ায় বাড়ির পাশের রাইসমিলে ধান ভাঙাতে গিয়ে মোছা. নূর নাহার (৩৫) নামে এক নারী ও মজিবুর রহমান (৩০) নামে এক যুবক এবং বাড়ির সামনের জমিতে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে আসাদ মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।

মিঠামইনে হাওর থেকে গরু আনতে গিয়ে গরুসহ সুমন মিয়া (৭) নামে এক শিশু ও ধান কাটতে গিয়ে মহিউদ্দিন (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এছাড়া ইটনায় হাওর থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে রুবেল দাস (২৬) নামে এক যুবক বজ্রপাতে নিহত হয়েছে।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, পাকুন্দিয়ায় বজ্রপাতে নিহত তিন জনের মধ্যে মোছা. নূর নাহার উপজেলার আলগীরচর গ্রামের হালিম উদ্দিনের মেয়ে, মজিবুর রহমান একই গ্রামের ইন্তাজ উদ্দিনের ছেলে এবং আসাদ মিয়া উপজেলার কোষাকান্দা গ্রামের মৃত আয়েছ আলীর ছেলে।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নূর নাহার ও মজিবুর রহমান আলগীরচর গ্রামের বাড়ির পাশের একটি রাইসমিলে ধান ভাঙ্গানোর জন্য যায়। সেখানেই বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোষাকান্দা গ্রামে জমিতে গরুর জন্য ঘাস কাটার সময় বৃষ্টিপাত শুরু হলে বজ্রপাতে আসাদ মিয়ার মৃত্যু হয়।

মিঠামইন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লায়ন মো. মতিউর রহমান জানান, মিঠামইনে বজ্রপাতে নিহত দুইজনের মধ্যে সুমন মিয়া উপজেলার কুড়ারকান্দি গ্রামের এবাদ মিয়ার ছেলে এবং মহিউদ্দিন উপজেলার বিরামচর গ্রামের মো. গোলাপ মিয়ার ছেলে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাওর থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন মিয়া মারা যায়। এ সময় তার ষাঁড়বাছুরটিও বজ্রাঘাতে মারা যায়। একই সময়ে হাওরের জমিতে বোরো ধান কাটার কাজ করতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মহিউদ্দিন নামে আরও একজন নিহত হয়।

ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান বিপিএম জানান, ইটনায় বজ্রপাতে নিহত রুবেল দাস উপজেলার কাঠুইর গ্রামের রাকেশ দাসের ছেলে। গতকাল দুপুরে হাওরের জমিতে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে বজ্রাঘাতে রুবেল দাস গুরুতর আহত হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *