গাজায় ৩ দিনের ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত ২৩ ফিলিস্তিনি, অস্ত্রবিরতির ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(তেলআবিব, ইসরায়েল) অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন জোরালো করে ইসরায়েল। হামাসসহ ফিলিস্তিনি জাতি-মুক্তি আন্দোলনের সংগঠনগুলো ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়ে তার জবাব দেয়। শুক্রবার গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ থেকে নতুন করে এই লড়াই শুরু হয়।ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি,  ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে ৩২০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এরপর একটানা তিনদিন বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করে ইসরাইলি বাহিনী। এতে রোববার পর্যন্ত ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

বিবিসি জানায়, শুক্রবার নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশ উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। রবিবার রাতে জাতিসংঘ, কাতার ও মিসর অস্ত্রবিরতির জন্য মধ্যস্ততার উদ্যোগ নেয়। সোমবার সকালে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক অস্ত্রবিরতিতে তারা সম্মত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে চারটা থেকে এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবে। তবে এই বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। রবিবার রাতজুড়েই বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরায়েল।

ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিরোধের ধারাবাহিকতায় গাজা উপত্যকায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের প্রতিবাদে শুক্রবার আবারও বিক্ষোভে নামে ফিলিস্তিনিরা। ওই বিক্ষোভের মধ্য থেকে এক ফিলিস্তিনির ছোড়া গুলিতে সীমান্ত বেড়ার কাছে দুই সেনা আহত হওয়ার দাবি করে ইসরায়েল। এর জবাবে বিমান হামলা চালিয়ে দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। ওই দুই ফিলিস্তিনিকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেয় ইসরায়েল।

এ ঘটনার জেরে শনিবার সকাল থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি ভূমি লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া শুরু হয়। ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু রকেট প্রতিহত করতে পারলেও বেশ কয়েকটি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে আঘাত হানে। এসব রকেট হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত অন্তত ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন রবিবার। ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠী জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের সাত সদস্য রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের এক ছেলে, দুই গর্ভবতী নারীও রয়েছেন।

রবিবার ইসরায়েলের সেনাবাহিনী হামাস কমান্ডার হামেদ হামদান আল-খোদারিকে টার্গেট করে গুপ্তহত্যার কথা স্বীকার করেছে। আল-খোদারির গাড়িতে ইসরায়েলি হামলার ভিডিও প্রকাশ করে এই স্বীকারোক্তি দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এবারের হামলায় ইসরায়েল যেসব ভবন ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে সেগুলোর মধ্যে গাজার একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এই ভবনে হামাসের গোয়েন্দা দফতর অবস্থিত ছিল। তুরস্ক জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির কার্যালয় ছিল সেখানে। রবিবার রাতে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরায়েল যদি পূর্ণ অস্ত্রবিরতির প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলেই কেবল পুরো শান্ত অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *