এমডিকে শরবত খাওয়ানোর চেষ্টার পর পানির সংকট আরও বেড়েছে ; ওয়াসার পানি নিয়ে গণশুনানি

বাংলাদেশ লিড নিউজ

(ঢাকা, বাংলাদেশ) ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শরবত খাওয়ানোর  চেষ্টার পর থেকে জুরাইন এলাকায় পানির সংকট বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান। এলাকার সাধারণ গ্রাহকরাও একই অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক গণশুনানিতে এসব অভিযেগ করেন এলাকাবাসী। ওয়াসার পাইপ লাইনে আসা পান অযোগ্য পানির ২২টি নমুনা প্রদর্শন করেছেন গণশুনানি অনুষ্ঠানে। মানব জমিনের এক প্রতিবেদনে এ খবর দেয়া হয়েছে।

‘নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক  গণশুনানিতে তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ড. লেলিন চৌধুরী, বাম দলের নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুমসহ নিরাপদ পানি আন্দোলনের  সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অধিকারকর্মী মিজানুর রহমান বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন পানির সংকট অনেক বেশি। এই সংকট দ্রুত সমাধান করতে হবে। পানি সংকটের কারণে যদি এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি ও অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনা ঘটে, এর দায় সরকারকে নিতে হবে।’

গণশুনানিতে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করে তিনি বলেন ‘বাসায় বসে ট্যাপ ছেড়ে পানি পান করতে চাই, যেসব বাসাবাড়ি এলাকায় পানি নাই এবং বিষাক্ত নোংরা ময়লা পানি আসছে সে সব বাসাবাড়িতে, এলাকায় অতিদ্রুত নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে, দূষিত পানির কারণে জুরাইন, শ্যামপুর, মুরাদপুর, ধনিয়ায় এ পর্যন্ত যারা অসুখ-বিসুখ এর শিকার হয়েছে তাদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, পূর্বে সরবরাহকৃত পানি দূষিত হওয়া সত্ত্বেও এযাবৎকালে তার জন্য যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সেই সমুদয় অর্থ গ্রাহককে ফেরত দিতে হবে।

‘ভবিষ্যতে সুপেয় পানি না পাওয়া পর্যন্ত অত্র অঞ্চলের মানুষ কোন বিল প্রদান করবে না, বছরের পর বছর কিভাবে নোংরা, দূষিত পানি সরবরাহ করল ওয়াসা, সেই বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং অসত্য বক্তব্যের জন্য ওয়াসার এমডিকে ক্ষমা চাইতে হবে। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে।’

তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ঢাকার চারপাশে যে নদী রয়েছে সেগুলোর পানি যদি পরিষ্কার থাকতো তবে মানুষের অসুখ-বিসুখ প্রায় অর্ধেকাংশে কমে যেতো। কারণ পানিবাহিত রোগীর সংখ্যাই বেশি। নিরাপদ পাইপের মাধ্যমে পানি প্রতিটা মানুষের ঘরে যাবে, এটা তাদের নাগরিক অধিকার। কিন্তু সেটা জনগণ  ভোগ করতে পারছে না। পানির আলাদাভাবে বাণিজ্যিকীকরণের ব্যবস্থা চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, এটা বন্ধ করে ওয়াসার নিরাপদ সুপেয় পানি ঘরে বসে ট্যাপ খুলে পান করতে। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আজকের এই গণশুনানি- জীবন নিয়ে গণশুনানি, কারণ পানির অপর নাম জীবন।’

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ড. লেলিন চৌধুরী বলেন, ওয়াসার দায়িত্ব নগরবাসীকে সুপেয় পানি পান করানো। কিন্তু তারা জনগণকে সেই সুবিধা দিচ্ছে না। সমপ্রতি আমরা জানতে পেরেছি আসাদ গেটে ওয়াসার একটি ল্যাবরেটরি আছে। যেখানে পানির বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা হয়। সেখানে তারা আমাদের টাকায় বেতন ঠিকই নিচ্ছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করছে না।  সরকারের উচিত, তারা হয় সঠিক কাজ করবে, না হলে ওয়াসা থেকেই এই বিভাগ বাতিল করে  দেয়া হোক। প্রয়োজন হলে আমরা নদীর পানি সংগ্রহ করে পান করবো।

গণশুনানিতে জুরাইন, দনিয়া, শ্যামপুরসহ শহরের ২২টি পয়েন্টের নোংরা পানি প্রদর্শন করা হয়। ভুক্তভোগীরা ওয়াসা কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুশিয়ারি দেন। শুধু তাই নয়, ওয়াসার নিরাপদ পানি দাবিতে আন্দোলকারীদেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। নগরীর সেবা সংস্থার কাছ থেকে নিরাপদ পানির এ আন্দোলন চলতে থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *