মাঝারি পাল­ার দুটো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

এশিয়া প্যাসিফিক

(পিয়ংইয়ং, উত্তর কোরিয়া) এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। এবার মাঝারি পাল­ার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। বৃহস্পতিবার দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সিনো-রি ঘাঁটি থেকে ছোড়া হয় ক্ষেপণাস্ত্র দুটো। প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দুরে গিয়ে আঘাতে হানে এগুলো।

পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পরমাণু আলোচনার অচলাবস্থা ভেঙে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

ফেরুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাল পিয়ংইয়ং। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে উত্তর কোরিয়া বলছে, সম্প্রতি যে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালানো হয়েছে তা ছিল নিয়মিত মহড়া এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এটি চালানো হয়েছে। এ মহড়া কোনো দেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়নি। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বুধবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

ট্রাম্প-কিম বৈঠকের পর গত ৪ মে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালায় উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ওই মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন। মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং এর মধ্যে অন্তত একটি স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এরপর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় একসঙ্গে দুটো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হল। বরাবরের মতো এ পরীক্ষা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ এক বিবৃতিতে বলেন, সকাল সাড়ে ৭ টায় পূর্বাঞ্চল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে শেষবারের মতো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর এই প্রথম পরপর দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালালো। এর আগে আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পরমাণু আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকা চাইছে কোনো শর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করুক।

কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, পরমাণু কর্মসূচি বর্জন করা হবে, তবে দেশটির ওপর থেকে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। এ নিয়ে দুই দেশের আলোচনায় একটা অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগেই সিউল পৌছান উত্তর কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিফেন বায়গান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *