এক মিসাইলেই ধ্বংস হবে মার্কিন নৌবহর: ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা

মধ্যপ্রাচ্য

(তেহরান, ইরান) ইরানের এক জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা আমেরিকার বিমানবাহী নৌবহর একটি মিসাইলেই ধ্বংস হবে। শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় তিনি এ কথা বলেন। ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনা’র বরাতে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ৫ মে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েনের ঘোষণা দেন। শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানায়, উপসাগরে প্যাট্রিয়ট আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

জল ও স্থলে চলাচল উপযোগী যানবাহন এবং বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আরলিংটন উপসাগরীয় এলাকায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামে আরেকটি যুদ্ধজাহাজের সাথে যোগ দেবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, এরইমধ্যে কাতারের ঘাঁটিতে পৌঁছেছে ইউএস বি-৫২ বোমারু বিমান।

পেন্টাগনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এসব যুদ্ধযান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত নৌবহর আব্রাহাম লিংকন বৃহস্পতিবার মিসরের সুয়েজ খাল পেরিয়েছে। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের একটি মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ ইউসেফ তাবাতাবাই-নেজাদ বলেছেন, উপসাগরের দিকে আসা তাদের বিলিয়ন ডলারের নৌবহর একটি মিসাইলেই ধ্বংস করা সম্ভব।

২০১৫ সালে জয়েন্ট কম্প্রিহেন্সিভ অ্যাকশন প্লান (জেসিপিওএ) নামে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তিনটি ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

পরে ধারাবাহিকভাবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের ঘোষণার বর্ষপূর্তির দিনে গত বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ওই চুক্তি থেকে তেহরানের আংশিকভাবে সরে আসার ঘোষণা দেন। একই দিন ইরানের ইস্পাত শিল্পের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

পাল্টাপাল্টি এসব উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে ইরানের হুমকির কথা জানানো হয়। তবে এই হুমকির প্রকৃতি নিয়ে খুব সামান্যই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ইরানের তরফ থেকে এই হুমকির কথা অস্বীকার করে একে বাজে কথা বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরান বলছে তাদের ভয় দেখাতে এসব যুদ্ধযান মোতায়েনের মাধ্যমে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *