ভারতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে মুসলিম যুবক নিহত, কারফিউ জারি

ভারত

ভারতের বিজেপিশাসিত অসমের হাইলাকান্দিতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সময় গুলিতে জমিরুদ্দিন (২৮) নামে এক মুসলিম যুবক নিহত হয়েছেন।

গতকাল (শুক্রবার) জুমা নামাজের সময় ওই সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হাইলাকান্দির জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারফিউ জারিসহ মোবাইল ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করা হয়েছে।

গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, শুক্রবার হাইলাকান্দির পুরোনো বাজার মসজিদে প্রচুর মানুষ জড়ো হন। মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা না হওয়ায় তাঁরা মসজিদ সংলগ্ন সড়কে নামাজ পড়তে উদ্যত হন।

এসময় আচমকা একদল যুবক তাদেরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শহরের এনএস রোড, পুরাতন হাসপাতাল পয়েন্ট, নেতাজি পয়েন্ট এলাকায় মারপিট, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের পাশাপাশি শূন্যে গুলি নিক্ষেপ করতে হয়।

উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারপিট ও সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে দুই ডজনের বেশি মানুষ আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতাল ও শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, সম্প্রতি মসজিদটিতে তারাবীহর নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের মোটরবাইকের সিট (আসন) কেটে দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। সেই থেকেই বিবাদের সূত্রপাত। পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে জুমাবারে বহু মানুষ মসজিদটিতে নামাজ পড়তে জমায়েত হন। মসজিদের মধ্যে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় তাঁরা সড়কের উপরেই নামাজ পড়তে উদ্যোগী হন। এরপরেই অন্যপক্ষের যুবকরা মারমুখী হয়ে তাদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। গণমাধ্যমের একটি সূত্রে প্রকাশ, হামলাকারীদের অধিকাংশই আরএসএসের সদস্য।

আব্দুল মান্নান লস্কর

এ প্রসঙ্গে অসমের হাইলাকান্দির বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান লস্কর আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘হাইলাকান্দিতে গত চারদিন আগে তারাবীহ’র নামাজের সময় মুসলিমরা যখন মসজিদে ছিল, তখন অজ্ঞাত মানুষজন মসজিদের বাইরে রাস্তার পাশে রাখা কয়েকটা বাইকের সিট (আসন) কেটে দিয়েছিল।

বিষয়টি তাঁরা প্রশাসনের নজরে আনেন কিন্তু প্রশাসন সেভাবে তৎপরতা দেখায়নি। ওই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ জানায় আগামী শুক্রবার জুমার নামাজ ওই মসজিদে গিয়ে পড়া হবে।

বর্তমানে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতে মসজিদটি অবস্থিত। যদিও ওই এলাকাগুলো একসময় মুসলিমদের ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে বা পার্টিশনের সময় হিন্দুরা এসে জমিজমা কিনে সেখানে বসতবাড়ি করেছে এবং সেখান থেকে মুসলিমরা হিন্দুদের কাছে জমিজমা বিক্রি করে কিছুটা অন্যদিকে চলে গেছে।’  

তিনি বলেন, প্রশাসনিক গাফিলতি ও তাদের নেতিবাচক ভূমিকার ফলেই ওই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছি। ওই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি। কেন কারফিউ জারি করার আগে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হল?

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা না ঘটে। যদি মোটরবাইকের সিট কাটার ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া হতো, প্রশাসন এ ব্যাপারে তৎপরতা দেখাত, তাহলে ঘটনা মোটেও এতদূর গড়াত না বলেও আব্দুল মান্নান লস্কর মন্তব্য করেন।

এদিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল হাইলাকান্দির ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজীব বরুয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।#

পার্সটুডে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *