ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার শিকার মসজিদ পরিদর্শনে জাতিসংঘ মহাসচিব

এশিয়া প্যাসিফিক

(ওয়েলিংটন, নিউজিল্যান্ড) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার শিকার মসজিদ পরিদর্শন করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার মসজিদ পরিদর্শন শেষৈ তিনি বলেন, অনলাইনে ঘৃণামূলক কথা ‘দাবানলের মতো’ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘ এই সংকট সমাধানে নেতৃত্ব দিবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন। মসজিদে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন তিনি। খবর এএফপির।

১৫ মার্চ ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদ। তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। হামলাটি বিশ্ববাসীর সামনে নতুন এক বাস্তবতা হাজির করে। প্রথমবারের মতো একটি হামলার লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয় এবং তা ভাইরাল হয়ে যায়। এতে আবারও সামনে আসে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকার প্রশ্ন।

ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন জানান,তিনি ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তিনি বলেন,‘যেসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়েছে শেষ পর্যন্ত তাদেরই দায় এগুলো সরানোর। আমি মনে করি তাদেরকে আরও কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরতে নিউ জিল্যান্ড সফরে আছেন। তবে তিনি পবিত্র রমজান মাসে সমর্থন ও সহমর্মিতা নিয়ে ক্রাইস্টচার্চের মুসলিমদের পাশেও দাঁড়াতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে দুঃখ, কষ্ট, বেদনা দূর করার মতো কোন সান্তনা বাক্য নেই। তবে আপনাদের প্রতি আমার ভালবাসা, সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা জানাতেই আমি এখানে এসেছি।’

আধুনিক নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে ক্ষতিগ্রস্তদের গুতেরেস বলেন, ধর্মান্ধতা তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করার ফলে সেখানে ‘ভয়াবহভাবে পরস্পরের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ছে।’ এই পর্তুগিজ কূটনীতিক আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ঘৃণা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আমাদেরকে অবশ্যই এটা বন্ধ করতে হবে। অনলাইন বা অফলাইন কোথাও ঘৃণামূলক বাক্যের স্থান নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *