আরবি ভাষার প্রথম লেখক হিসেবে ম্যান বুকার

আরবি ভাষার প্রথম লেখক হিসেবে ম্যান বুকার পেলেন ওমানের জোখা আলহার্থি

মধ্যপ্রাচ্য

(মাসকট, ওমান) প্রথম আরবি লেখক হিসেবে ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছেন লেখিকা জোখা আলহার্থি। তিনি তাঁর উপন্যাস ‘সেলেস্টিয়াল বডিজ’-এর জন্য এই পুরস্কার পেলেন। জোখার জন্মভূমি ওমানের উত্তর-ঔপনিবেশিক পরিবর্তনই ওই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

মঙ্গলবার লন্ডনের রাউন্ড হাউসে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পরে ৪০ বছরের জোখা সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি রোমাঞ্চিত যে উন্নত আরব সংস্কৃতির দিকে একটি জানলা খুলে গেল।’আলহার্থির এযাবৎ দু’টি ছোটগল্প সংকলন, একটি ছোটদের বই ও তিনটি উপন্যাস লিখেছেন। এডিনবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধ্রুপদী আরবি কবিতা নিয়ে শিক্ষালাভ করে এই মুহূর্তে মুসক্যাটে সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

৫০০০০ পাউন্ড মূল্যের পুরস্কার দুনিয়াব্যাপী অনুবাদিত সাহিত্যকে দেওয়া হয়। জোখার উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্লিন বুথ। তিনি ও জোখা দু’জনে পুরস্কারটি সমমূল্যে ভাগ করে নেবেন। ‘সেলেস্টিয়াল বডিজ’ বইটি নিয়ে জোখা জানিয়েছেন, ‘ওমান আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক পাঠকেরা এই বইয়ের মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সহমর্মিতা অনুভব করবেন— স্বাধীনতা ও ভালোবাসা।’

বিচারকদের মতে বইটি ‘উন্নত কল্পনাসম্পন্ন, আকর্ষণীয় এবং বদলে যেতে থাকা ও এতদিন অজ্ঞাত হয়ে থাকা এক সমাজকে কাব্যিক অন্তর্দৃষ্টিতে দেখে লেখা।’ উপন্যাসের পটভূমি ওমানের আল-আওয়াফি নামের এক গ্রাম। সেখানে বাস করে তিন বোন— মায়া, আস্মা ও খাওলা।

মায়া একবার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আবদাল্লাকে বিয়ে করেছে, আস্মা বিয়ে করছে দায়িত্ববোধের কারণে এবং খাওলা অপেক্ষারত তাঁর প্রেমিকের জন্য যে কানাডায় চলে গিয়েছে। এই তিন বোন দেখেছে কীভাবে ওমান এতদিনের ক্রীতদাস প্রথা অধ্যুষিত সমাজ থেকে বদলাতে শুরু করেছে। আলহার্থি জানিয়েছেন, ‘দাসত্বের মতো বিষয়কে এই লেখা ছুঁয়েছে। আমার মনে হয়, সাহিত্য এই বিষয়ে কথা বলার সেরা মঞ্চ।’

বিচারকরা জানাচ্ছেন, ‘বইটি টানটান ও সুশৃঙ্খল কাঠামোয় গড়া। বইটিতে একটি পরিবারের বিচ্ছেদ ও ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে ওমানের পরিবর্তিত দিনের কথা বলা হয়েছে।’দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে বইটি এমন এক সংস্কৃতির ভিতরে উঁকি দিয়েছে যা পশ্চিমের কাছে অপেক্ষাকৃত অচেনা। ‘দ্য ন্যাশনাল’ লিখেছে একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য প্রতিভার উঠে আসার ইঙ্গিতবাহী এই বই। তারা বইটিকে ঘন ও তীব্র কল্পনাশক্তির ফসল।

প্রধান জুরি বেটানি হিউজেস জানাচ্ছেন, ‘এই উপন্যাস সূক্ষ্ম শিল্প এবং আমাদের ইতিহাসের অস্বস্তিকর পরিপ্রেক্ষিতকে তুলে ধরেছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘‘লেখার স্টাইলটি আসলে রূপক, যা সূক্ষ্ম ভাবে দাসত্ব, লিঙ্গভেদ ও সমাজের সব ক্লিশের বিরুদ্ধে কথা বলেছে।’ আলহার্দি আরও পাঁচজন বাছাই লেখককে হারিয়ে এই পুরস্কার পেলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *