রূপপুরে বালিশকাণ্ড: পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় দুদক

বাংলাদেশ

(ঢাকা, বাংলাদেশ) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পের কেনাকাটায় দুর্নীতির বিষয়ে নজর রাখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কোনো পদক্ষেপ নেবে না সংস্থাটি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের পরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। খবর মানব জমিনের।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের কতগুলো প্রজেক্ট আছে যেগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে হঠাৎ করে আপনি জাম্প করবেন, সেখানে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। এটা জাতীয় বিষয়, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বহুদিন ধরে চলছে। কিন্তু এটার বাস্তবায়নের কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও গুরুত্বপূর্ণ। সো জাস্ট ওয়েট। টেলিভিশনে দেখলাম একজন মন্ত্রী বলছেন যে, বেতন-ভাতা এগুলো সঠিক নয়। বালিশের ক্ষেত্রে এরকম একটা পরিস্থিতি তো হতেও পারে।

 গত ১৯শে মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কেনাকাটায় অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার পেমেন্ট বন্ধ রাখা হবে। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও সিএমআই’র সিনিয়র গবেষক ইঞ্জ এ্যামানসেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বেসরকারি খাতের দুর্নীতির বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ ( টিআইবি) এর ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় ইকবাল মাহমুদ বলেন, সার্বিকভাবে টিআইবি ভালো কাজ করছে। তারা তাদের গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস শনাক্তকরণসহ তা নিরসনে কিছু কাজ করছে।

চাইলে দুদক চেয়ারম্যান লেন, বাংলাদেশে সুশাসনের জন্য অনেক আইন রয়েছে, তবে এসব আইনের প্রয়োগে সমস্যা রয়েছে। ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট কেন হচ্ছে না ? এর মূলে রয়েছে এসব আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং দুর্নীতি। এক্ষেত্রে টিআইবি এবং সিপিডির মতো প্রতিষ্ঠান গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতি-অনিয়মের কারণ, ধরন, ব্যপকতা শনাক্ত করে তা প্রতিরোধে সুপারিশ প্রণয়ন করতে পারে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের সক্ষমতায় কিছুটা ঘাটতি হয়তো রয়েছে, তা অতিক্রমের জন্য কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া দুর্নীতি করলে তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে, এই বার্তা দিতে কমিশন সফল হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, দুর্নীতির অভিযোগে অনেক প্রভাবশালীদের আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *