ইরানকে চাপে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র) মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার সকালে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমিরাতের উপক‚লে সম্প্রতি কয়েকটি তেলের ট্যাংকারে হামলার দায় তেহরানের ওপর চাপানোর পরই প্রায় দেড় হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশগুলোর ওপর হুমকি হয়ে উঠছে ইরানি বাহিনীগুলো।

ইরানের চারপাশে বেশ কয়েকটি ঘাঁটিতে ইতিমধ্যে ছয় হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। নতুন করে আরও সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের কর্মকর্তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপ ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের জন্য ঝুকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। এদিকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সৌদি আরবকে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছেন ট্রাম্প। এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকের ওপর ব্যবহার হতে পারে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। খবর রয়টার্সের।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পারমাণু চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তেহরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার এক বছরের মাথায় চুক্তি থেকে আংশিক সরে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেয় তেহরান।

এরপর ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে উগসাগরীয় এলাকায় বিমানবাহী রণতরী, ক্ষেপণাস্ত্রসহ যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে অবগত করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান।

শানাহান বলেছেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা চেয়ে কমান্ডারদের অনুরোধের তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। তনি বলছেন, এই পদক্ষেপ হলো ইরানিয়ান সেনাবাহিনী, আইআরজিসির অব্যাহত হুমকির মোকাবেলায় এই সেনারা একটি রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করবে।

আইআরজিসি হলো ইরানি রেভুল্যশনারি গার্ড কর্পস, সামরিক বাহিনীর একটি এলিট শাখা, যাদের গত মাসে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ানাহান বলছেন, প্রকৌশল দলের অংশ হিসাবে সেখানে অতিরিক্ত গোয়েন্দা ও নজরদারি সরঞ্জাম এবং বিমান মোতায়েন করা হবে। কটি ফাইটার এয়ারক্রাফট স্কোয়াড্রন ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমও পাঠানো হবে।

এরপরেই সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে ট্রাম্পের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানায় পেন্টাগন। এ সম্পর্কিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর একটি চিঠি মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে ফাস হয়ে যায়। ওই চিঠিতে পম্পেও বলেন, ‘ইরানের মারাত্মক কর্মকাণ্ডের’ কারণেই সৌদির কাছে এক্ষনি অস্ত্র বিক্রির দরকার।

পম্পেও লেখেন, ‘ইরানের কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং ভেতরে-বাইরে আমেরিকার নিরাপত্তার ওপর মৌলিক হুমকি সৃষ্টি করেছে। পম্পেও বলেন, উপসাগরীয় এলাকা ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যে হঠকারি সিদ্ধান্ত থেকে ইরানকে বিরত রাখতে যত দ্রুত সম্ভব এসব অস্ত্র অবশ্যই হস্তান্তর হতে হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের এ শত্র“তামূলক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। শনিবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনার উপস্থিতিতে এ অঞ্চলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি ঝুকির মুখে ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *