৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসব: সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দি’অর পেল ‘প্যারাসাইট’

ইউরোপ

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল ৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের। এ বছর সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দি’অর (স্বর্ণ পাম) জিতেছে ‘প্যারাসাইট’। এ ছবির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা বন জুন হো পেয়েছেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় সম্মান। কান উৎসবে এবার কোরিয়ার প্রথম কোনো চলচ্চিত্র পাম দি’অর পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। জুরিপ্রধান আলেহান্দ্রো ইনারিতু জানিয়েছেন, নয়জন জুরির সবাই ‘প্যারাসাইট’ ছবিকে এই পুরস্কার দেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

দক্ষিণ ফ্রান্সের সাগরপাড়ের শহর কানে আয়োজন করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব। কান কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার এটি একটি কারণ। চলচ্চিত্রানুরাগী ও চলচ্চিত্র শিল্পের মানুষদের কাছে কান হলো তীর্থভূমি। কান নিয়ে তামাম দুনিয়ার আগ্রহের শেষ নেই।

সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ছায়াছবি দুনিয়ার প্রায় সবাই ও রূপালি পর্দার অনুরাগীরা মে মাসে বছরের সবচেয়ে বড় আয়োজন কান চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য দক্ষিণ ফরাসি উপকূলে দুই সপ্তাহের জন্য দেশান্তরী হয়। চাকচিক্যময় তারকাখচিত লালগালিচা প্রিমিয়ার, দিনভর ছবির প্রদর্শনী, মিটিং, নেটওয়ার্কিং ও পার্টির সম্মিলন থাকে সাগরপাড়ের এই শহরে। ন্যূনতম আগ্রহ থাকলেও কান উৎসবে প্রদর্শিত ছবি দেখার সুযোগ হাতছাড়া করে না বেশিরভাগ মানুষ।   

গত ১৪ই মে শুরু হয়ে ২৫ শে শেষ হয় ১২ দিনের এই বনাঢ্য আয়োজন। এ আয়োজনে সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের অভিনেতা অ্যান্টনিও বান্দেরাস। ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’ সিনেমায় অভিনয় করে সবার মন জয় করেছেন তিনি। আর ‘লিটল জো’ সিনেমায় অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন ব্রিটিশ তারকা এমিলি বিচাম।

১২ দিনব্যাপী ৭২তম কান উৎসবের বিজয়ীরা হলেন-

মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ

পাম দি’অর : প্যারাসাইট (বঙ জুন-হো, দক্ষিণ কোরিয়া)

গ্র্যান্ড প্রাইজ : আটলান্টিকস (মাতি দিওপ, সেনেগাল-ফ্রান্স)

সেরা পরিচালক: জ্য-পিয়ের ও লুক দারদেন (ইয়াং আহমেদ, বেলজিয়াম)

জুরি প্রাইজ: লেস মিজারেবলস (লাজ লি, মালি-ফ্রান্স) ও বাকুরাউ (ক্লেবার মেনদোনসা ফিলো ও জুলিয়ানো দোরনেলেস, ব্রাজিল)

সেরা অভিনেতা: আন্টনিও বান্দেরাস (পেইন অ্যান্ড গ্লোরি, স্পেন)

সেরা অভিনেত্রী: এমিলি বিচাম (লিটল জো, যুক্তরাজ্য)

সেরা চিত্রনাট্যকার: সেলিন সিয়ামা (পোর্ট্রেট অব অ্যা লেডি অন ফায়ার, ফ্রান্স)

স্পেশাল মেনশন: ইট মাস্ট বি হ্যাভেন (ইলিয়া সুলেমান, ফিলিস্তিন)

সম্মানসূচক পাম দি’অর: আলা দ্যুলো

স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা

সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি: দ্য ডিস্ট্যান্স বিটউইন আস অ্যান্ড দ্য স্কাই (ভাসিলিস কেকাতোস, গ্রিস)

স্পেশাল মেনশন (স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি): মনস্টার গড (অগাস্তিনা স্যান মার্টিন, আর্জেন্টিনা)

রিগার্ড প্রাইজ

সেরা চলচ্চিত্র: দ্য ইনভিজিবল লাইফ অব ইউরিজিসি গুজমাও (করিম আইনুজ, ব্রাজিল)

জুরি প্রাইজ: ফায়ার উইল কাম (অলিভার লাচে, ফ্রান্স)

সেরা অভিনয়: চিয়ারা মাস্ত্রোইয়ান্নি (অন অ্যা ম্যাজিক্যাল নাইট, ফ্রান্স)

সেরা পরিচালক: কান্তেমির বালাগভ (বিনপোল, রাশিয়া)

স্পেশাল জুরি প্রাইজ: লিবার্টি (আলবের্ত চেরা, স্পেন)

বিচারকদের মুগ্ধতা: অ্যা ব্রাদার’স লাভ (মনিয়া শকরি, কানাডা) ও দ্য ক্লাইম্ব (মাইকেল অ্যাঞ্জেলো কভিনো, যুক্তরাষ্ট্র)

জুরি স্পেশাল মেনশন: জোয়ান অব আর্ক (ব্রুনো দুমন্ত, ফ্রান্স)

ক্যামেরা দ্য’র

সিজার ডায়াজ (আওয়ার মাদারস, বেলজিয়াম-গুয়াতেমালা)

সিনেফরদ্যাশন

প্রথম পুরস্কার: ম্যানো আ ম্যানো (লুই কোরভয়জিয়ের, সিনেফ্যাব্রিক, ফ্রান্স)

দ্বিতীয় পুরস্কার: হিউ (রিচার্ড ভ্যান, ক্যাল আর্টস, যুক্তরাষ্ট্র)

তৃতীয় পুরস্কার: অ্যামবিয়েন্স (উইসাম আল জাফারি, দার আল-কালিমা ইউনিভার্সিটি কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড কালচার, ফিলিস্তিন) ও দ্য লিটল সৌল (বারবারা রুপিক, পিডব্লিউএসএফটিভিট, পোল্যান্ড)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *