স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা মাহমুদ আব্বাসের

মধ্যপ্রাচ্য

(রামাল্লা, ফিলিস্তিন) স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছেন ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের পর আব্বাস বলেছেন, কেবল স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলেই ফিলিস্তিনিদের কাছে ঈদের আনন্দ ফিরে আসবে।

বুধবার ঈদ উপলক্ষে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় প্রয়াত ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের কবর জিয়ারত করতে যান ফিলিস্তিন স্বায়ত্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে বলেছি, তখনই আমাদের কাছে ঈদ ফিরে আসবে যখন আমরা আমাদের দেশকে স্বাধীন করতে পারব, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী বানিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব, আর কথিত ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’র মতো নানান ধারার ষড়যন্ত্রগুলোকে রুখে দিতে পারব।’

বেশ কিছুদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের সংকট নিরসনে একটি প্রস্তাব হাজির করার তোরজোর চলছে। তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরাইলে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন রেখেছে।

আগামী ২৫ ও ২৬ জুন বাহরাইনের রাজধানী মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি সম্মেলনে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সেই চুক্তির প্রথম অংশ প্রকাশের কথা রয়েছে। এই চুক্তি মানতে ফিলিস্তিনিদের বাধ্য করার প্রচেষ্টার অভিযোগও এসেছে সংবাদমাধ্যমে। সেই ধারাবাহিকতায় মানামা সম্মেলনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘোষণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের মে মাসে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়া ও গুয়েতমালার পক্ষ থেকেও জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করা হয়।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, জনগণের অধিকার চিরতরে নির্মূল করে দেওয়ার লক্ষ্যে আমেরিকা ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ বা কথিত ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ নামক পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এটি কখনও ফিলিস্তিনের কল্যাণ বয়ে আনবে না। তবে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *