ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কারে হামলা: ইরানের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র) ওমান উপসাগরে দুই তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, হামলার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে। দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিওও উপস্থাপন করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তাদের বক্তব্য, বিস্ফোরণের পর সামরিক নৌকায় করে এসে ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যরা জাপানের মালিকানাধীন ‘কোকুকা কারেজিয়াস’ ট্যাংকার থেকে অবিস্ফোরিত মাইন সরিয়ে নিয়েছে এবং সেই দৃশ্য ভিডিওতে দেখা গেছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, হামলার স্থান থেকে আলামত সরানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই ইরানি বাহিনী এই কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরই এর দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে বিবৃতি দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে ওয়াশিংটনের এই দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন।

বৃহস্পতিবার সকালে ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ট্যাংকার দুটির একটি মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার এবং অপরটি পানামার পতাকাবাহী কোকুকা কারেজিয়াস। ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার নরওয়ের মালিকানাধীন আর কোকুকা জাপানের মালিকানাধীন। বিস্ফোরণের পর দুই ট্যাংকার থেকে ৪৪ জন ক্রুকে উদ্ধার করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর অন্তত চারজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন তাদের কাছে ওই হামলার ছবি আছে। ওই কর্মকর্তাদের একজন জানান, ভিডিওটি মার্কিন সামরিক বিমান থেকে ধারণ করা। সেখানে দেখা যায়, একটি ছোট নৌকা জাপানি ট্যাংকারের পাশে এসে দাঁড়ায়। একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ট্যাংকার থেকে কিছু সরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই বস্তুটি অবিস্ফোরিত মাইন। ওই অঞ্চলে মার্কিন ডেস্ট্রেয়ার জাহাজ ও একটি ড্রোন থাকার পরও সেখানে প্রবেশ করে ইরানি নৌকাটি। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলার প্রমাণ মুছে ফেলতেই সেখানে গিয়েছিলো সেটি।

আরেকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, ঘটনার সময় সেখানে অনেকগুলো ইরানি ছোট নৌকা প্রবেশ করেছিল। এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস বেইনব্রিজ কিংবা এর মিশনের ওপর কোনও রকম হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেয়া হবে না। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট ট্যাংকার ওনার্স বলছে, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হামলা’ বলে সন্দেহ করছে তারা।

জাতিসংঘের নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোনাথান কোহেন পম্পেও বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, এটা এই অঞ্চলে ইরানের সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার আরেকটি উদাহরণ। তবে ইরানি মিশন এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। মিশনের মুখপাত্র আলিরেজা মিরইউসেফি বলেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এই হামলার সর্বোচ্চা নিন্দা জানাই আমরা।’ তিনি বলেন, এই সন্দেহজনক ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।

এমন সময় নতুন এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১২ মে আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি,ইরানের ইন্ধনেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এ ঘটনায় তদন্তের দাবি জানায় তেহরান। এটাকে ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলা’ বলে উল্লেখ করে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত তারা বলেনি দেশটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *