প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ায় ট্রাম্প

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

(পিয়ংইয়ং, উত্তর কোরিয়া) প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার  তিনি প্রথমে দুই কোরিয়ার মধ্যে অসামরিকায়িত অঞ্চলে পৌঁছান। অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে খ্যাত এই অস্ত্রমুক্ত এলাকায় তিনি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তার সঙ্গেই হেঁটে হেঁটে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করেন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশের পূর্বে কিম জং উনের সঙ্গে করমর্দন করেন ট্রাম্প। এ সময় দুই দেশের নেতা একসঙ্গে ছবি তোলেন। একে বড় অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। তারা সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য। তবে অনেকেই মনে করছেন, এই পদক্ষেপের কারণে ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিষ্ক্রিয়করণ নিয়ে আলোচনার পথ সুগম হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ করার বিষয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই দুই নেতার শেষ আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া সমাপ্ত হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐ ব্যর্থ বৈঠকের পর এবারই সাক্ষাৎ করছেন দুই নেতা।

তাদের ওই সাক্ষাৎকে সামনে রেখে সীমান্তের ওই এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছিল। এর আগে জাপানে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে এক টুইটে কিমের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তার এমন আগ্রহকে অপ্রত্যাশিত বলে বর্ণনা করেছে পশ্চিমা মিডিয়া। তিনি ওই টুইটের মাধ্যমে কিম জং উনকে সীমান্তে তার সঙ্গে সাক্ষাতের স্বতঃস্ফূর্ত আমন্ত্রণ জানান। কিম তার আহ্বানে সাড়া দেবেন কিনা তা নিয়ে প্রথম দিকে সকলেই কিছুটা অনিশ্চয়তায় ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তারা তার আমন্ত্রণকে ‘অদ্ভূত’ বলে আখ্যায়িত করে।

সিউলে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ও কিম জং উন অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান তিনি। ‘এ সাক্ষাৎ হবে খুব সংক্ষিপ্ত। কার্যত তা হবে হ্যান্ডশেক। এটাই যথেষ্ট। একবার হ্যান্ডশেকের অর্থ বিপুল। কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি তিনি আগে থেকে পরিকল্পনা করেন নি বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, আমি যখন দক্ষিণ কোরিয়ায় তখন ভাবলাম, আমি এখানে এসেছি। তাহলে কেন কিমকে হ্যালো বলব না’ বলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশাপাশি কথা বলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সাক্ষাৎ হবে পানমুনজামে। এটি হলো দুই দেশের সীমান্তে অস্ত্রমুক্ত একটি এলাকা। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমঝোতামূলক অনেক আলোচনা হয়েছে এখানে। এর আগে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট যান নি। পানমুনজোম হলো একটি সরস ভূমি, যা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিভক্ত করেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এই বৈঠকের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে খুব বেশি সময় পাওয়া যায়নি বিধায় এটিকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছবি তোলার একটি উপলক্ষই মনে করছেন অনেকে। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করার পথে দুই দেশের চলমান আলোচনার অগ্রগতির প্রাথমিক লক্ষণও মনে করা হচ্ছে এই সাক্ষাৎকে।

সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের ঐতিহাসিক প্রথম সাক্ষাতের সময় উত্তর কোরিয়ার বিতর্কিত পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করার আলোচনা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে।  সে সময় কোরীয় উপদ্বীপ অঞ্চলকে ‘সমপূর্ণভাবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত’ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় দুই নেতাই, তবে কেউই পরিষ্কার করেনি এর মাধ্যমে কী বোঝাচ্ছেন তারা।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে তাদের দ্বিতীয় বৈঠকে আশা করা হয় যে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার বদলে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম হস্তান্তর করবে দেশটি। তবে কোন নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় ঐ বৈঠকটিও ব্যর্থ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে আলোচনা থেমে গেলেও গত কয়েক সপ্তাহে দু’জনের চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *