চুক্তি ভেঙে ইউরেনিয়ামের মজুত সীমা ছাড়াল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য

তেহরান, ইরান- নতুন করে পরমাণু বোমা বানাতে প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেছে ইরান। ইতিমধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ৩০০ কেজির মজুত সীমাও অত্রিক্রম করেছে। পরমাণু চুক্তি রক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে চলতি সপ্তাহেই শেষ হয় ইউরোপকে দেয়া তেহরানের ১০ দিনের আল্টিমেটাম। শেষ হওয়ার পরই সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। পরমাণু পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) এ তথ্যও নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যদিয়ে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে করা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আংশিক লঙ্ঘণ করল তেহরান।

গত মাসে ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন-তেহরান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইউরেনিয়াম পুনঃ সমৃদ্ধকরণের হুমকি দেন ইরানির কর্মকর্তারা। তবে এ পদক্ষেপ থামাতে একটি রাস্তা খোলা রাখে তারা। ইউরোপের দেশগুলো যদি ১০ দিনের মধ্যে পরমাণু চুক্তি সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবে সংকটের সমাধান অন্যভাবে হতে পারে।

সে সময় ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি বলেন, ‘(ইউরেনিয়াম) সমৃদ্ধকরণ হার আমরা চারগুণ করেছি। সম্প্রতি এ হার আমরা আরও বাড়িয়েছি, যাতে দশ দিনের মধ্যেই আমরা বেঁধে দেওয়া ৩০০ কেজি সীমা অতিক্রম করতে পারি।’ কিন্তু তেহরানের এ আল্টিমেটামে সাড়া না দেয়নি পশ্চিমা দেশগুলো।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসেই তেহরান ছয় জাতি পরমাণু চুক্তি থেকে কিছুটা সরে আসার ঘোষণা দেয়। ২০১৫ সালে হওয়া ওই চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া ও নতুন করে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়াতেই এ পদক্ষেপ নেয় ইরান। ওই চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প থেকে সরে আসার অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম মজুত কমানোর কথা।

চুক্তিতে ১৫ বছরের জন্য ইরান নিম্নমানের ইউরেনিয়ামের (ইউরেনিয়াম-২৩৫ আইসোটোপের পরিমাণ যেখানে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ) মজুত ৩০০ কেজিতে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল চুক্তির বাকি পাঁচ অংশীদারের পক্ষ থেকে।

চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার প্রতিশ্রুতি পালন করলেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে অভিযোগ এনে গত বছর নিজেকে চুক্তি থেকে সরিয়ে নেয়। ইরানের পক্ষ থেকে ইউরোপকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ইউরোপ এ ক্ষেত্রে তাদের নিরুপায় অবস্থার কথা প্রকারান্তরে জানিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় ইরান বলেছে, মে মাসে যে ষাট দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল, তা শেষ হওয়ার পর তারা আরও ষাট দিন সময়ের প্রত্যাশা করতে পারে না।

পারমাণবিক চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি বেঁধে দেয়া হয়। চুক্তিতে বলা হয়, ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পরিমাণ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম আহরণ করতে পারবে। চুক্তির আগে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান। তাঁর যুক্তি, চুক্তিটি দুর্বল। চুক্তি থেকে বেরিয়ে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *