মাদক ও সোনা চোরাচালানের বড় ট্রানজিট মিয়ানমার

পূর্ব এশিয়া লিড নিউজ

নেপিদো, মিয়ানমার- আফিম, হেরোইন, কোকেন থেকে শুরু করে হালের ইয়াবা ও খাটপাতা। বছরের পর বছর ভয়াবহ সব মাদক দিয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোকে বিশেষ করে বাংলাদেশ সয়লাব করে চলেছে মিয়ানমার। সঙ্গে একে-৪৭সহ নানা অস্ত্রের চালান। সম্প্রতি এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন এক আইটেম। সেটা হচ্ছে ঝা চকচকে স্বর্ণের বার। বর্তমানে চোরাচালানের প্রধান উপাদান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখন চোরাচালানের সবচেয়ে বড় ট্রানজিট হয়ে উঠেছে মিয়ানমার।

প্রধানত মিয়ানমারের উত্তরপূর্ব অঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোই চোরাচালানের পুরো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আর এর সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর। ভারত-মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলেই রয়েছে চোরাচালানের প্রধান রুটগুলো। এসব রুট দিয়ে মাদকের বেশিরভাগই ঢোকে বাংলাদেশে। আর স্বর্ণের বেশিরভাগ চালানের গন্তব্য ভারত। বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের ব্যবহার হয়, ছোট সেই তালিকায় এ দেশটির নাম প্রথম দিকেই। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এক সময় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অর্থের যোগান আসত মূলত অস্ত্র চোরাচালান থেকে। বহু বছর ধরে ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত ছিল এ অস্ত্র চোরাচালানের প্রধান রুট। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।

ইয়াবা উৎপাদনে মিয়ানমার সবার শীর্ষে। মরণ নেষায় এশীয় যুবকদের ইয়াবায় পাগল করছে দেশটি। আগের সেই রুট ব্যবহার করেই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার থেকে মরণঘাতি এই মাদক পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা, কলকাতা, বেইজিং, হংকং, ব্যাংকক, ম্যানিলা, জাকার্তা, সিউল, টোকিও, তাইপে, সিডনি, ওয়েলিংটনসহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বড় বড় শহরগুলোতে।

ভারতীয় পুলিশের তথ্য মতে, মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি পাচার হচ্ছে সোনা। দেশটির এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূলত বিস্কুট বা বারের আকারে প্রবেশ করে এসব সোনা। প্রত্যেকটি বারের ওজন ১৬৬ গ্রাম করে। এতে উৎস দেশের নাম লেখা থাকে না।

মিয়ানমারের দুই প্রদেশ কাচিন ও কায়িন এবং মান্দালয়, সাগাইং, বাগো ও তানিনথারি-এই চারটি অঞ্চল থেকে চালান আসে। গন্তব্যে পৌছানোর আগে সোনার চালানগুলো খুব দ্রত হাত বদল হয় বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। সীমান্ত পার হওয়ার পর বনজঙ্গলের মধ্যদিয়ে চালানগুলোর প্রথম গন্তব্য মনিপুরের ইম্ফল। এখান থেকে সড়কপথে বা রেলপথে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর বা আসামের সিলচর বা বাংলাদেশের টেকনাফের মধ্যদিয়ে কলকাতা বা নয়াদিলি­ পৌছায়।

এসব চালানের মধ্যে কিছু কিছু মাঝে মাঝে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ভারতে চালানের বেশিরভাগই আটক করে দেশটির ‘ডিরেক্টরেট রেভিনিউ ইনটেলিজেন্সের (ডিআরআই) কর্মকর্তারাই। আটক করা হয় প্রধানত স্বর্ণের প্রধান বাজার কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই ও দিলি­ থেকে।

সম্প্রতিক তথ্য মতে, ২০১৭-২০১৮ সালে কর্মকর্তারা ৩ হাজার ২২৩ কেজি সোনা আটক করে যার বাজারমূল্য ৯৭৪ কোটি রুপি। ডিআরআই’র রিপোর্ট মতে, মোট চোরাচালানের ৫-১০ শতাংশ আটক হয়। সেই হিসেবে প্রতিবছর পাচার হয় প্রায় ৯ হাজার কোটি রুপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *