৬ মাসে ৬৩০ নারী ধর্ষণ: রিপোর্ট

বাংলাদেশ

ঢাকা, বাংলাদেশ- চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) দেশে ৬৩০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ নারীকে। এছাড়া অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন মোট ১১ নারী। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।সোমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদন মতে, সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানি বেড়েছে। ৫৫ সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এছাড়া একজন সাংবাদিকের রহস্যজনক মৃত্যু ও একজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে।

আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে সাতজন। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ১০৫ নারীর ওপর।

আসক বলছে, গত ছয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১২৭ নারী। এর মধ্যে যৌন হয়রানির কারণে ৮ জন আত্মহত্যা করেছেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ নারী ও ২ পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিক্ষার হয়েছেন ১২৪ নারী-পুরুষ।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আসক বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক হেফাজতে/‘ক্রসফায়ারে’ মোট ২০৪ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে ৫৯, পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ ৯২, ডিবি পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ ১২, বিজিবির ‘ক্রসফায়ারে’ ২৮ জন নিহত হয়েছে।

আসক বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের হত্যা এবং নির্যাতনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। গত ছয় মাসে ৮৯৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, ৪০ শিশু আত্মহত্যা করেছে, নিখোঁজের পর এক শিশু এবং বিভিন্ন সময়ে ১৭ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে ৪১ শিশুর।

বিএসএফের গুলিতে নিহত : সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২০ জন। এর মধ্যে ১৮ জন গুলিতে এবং শারীরিক নির্যাতনে ২ জন মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৫ ও অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৯ জন।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন : হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৮টি প্রতিমা ভাংচুর, মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৯ জন। এছাড়া আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ১৬টি বসতঘর ও ৪টি দোকানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে ৫০ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *