মিয়ানমারের ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা: রাইটস গ্রুপ

পূর্ব এশিয়া লিড নিউজ

লন্ডন, ব্রিটেন: রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ‌ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ডই সবচেয়ে বড় বাধা বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক। সংস্থাটি বলেছে, এই কার্ড আদতে রাখাইনের বর্ণবৈষম্যই বৃদ্ধি করছে। কার্ডটিকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রথম ধাপ বলে দাবি করছে মিয়ানমার। কিন্তু বছরের পর বছর এই কার্ডের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে ‘রাষ্ট্রহীন’ করে রাখা হয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব জানায় সংস্থাটি।   

‌’এনভিসি: এ ব্যারিয়ার টু রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন’ শীর্ষ ওই প্রতিবেদনটি কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতক রাষ্ট্রীয় অপরাধ প্রকল্পের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করে মানবাধিকার সংস্থাটি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক কিয়াও উইন বলেন,‘মিয়ানমার সরকার এনভিসিকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রথম ধাপ দাবি করলেও তা বিতর্কিত।  এই কার্ড দিয়ে বছরের পর বছর রোহিঙ্গাদের আলাদা চিহ্নিত করে বিদেশিদের মতো করে রাখা হয়েছে। 

মিয়ানমার যেন রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে সেই ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান উইন। এক বিবৃততে সংস্থাটি জানায়, তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন যে তাদের হুমকি দিয়ে এনভিসি কার্ডের ব্যাপারে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের।

এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রসিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রংবেরঙের পরিচয়পত্রে ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের জাতিগত পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন নাগরিকে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ সাল থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *