ট্রাম্পের মানবাধিকার প্যানেলে নিয়োগ পেলেন মার্কিন শিক্ষাবিদ হামজা ইউসুফ

আমেরিকা

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও দেশটিতে প্রথম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শেখ হামজা ইউসুফ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানবাধিকার বিষয়ক অ্যাডভাইজার প্যানেলে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। চলতি সপ্তাহে (৮ই জুলাই সোমবার) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও কমিশন অব আনএলাইনেবল রাইটস (Commission on Unalienable Rights) এর সদস্য হিসেবে শেখ হামজা ইউসুফের নাম ঘোষণা করেন। কমিশনের প্রধান হিসেবে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেরি অ্যান গ্লানডনকে নিযুক্ত করা হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আইর।

অল্প বয়সেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন শেখ হামজা ইউসুফ। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন শিক্ষাবিদের সঙ্গে প্রায় দুই দশক কাটিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ২০০৯ সালে তিনি জায়তুনা কলেজ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ তাকে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসলামি শিক্ষাবিদ বলে মনে করে থাকেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মানবাধিকার বিষয়ে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হামজা ইউসুফ বিপুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন।  যুক্তরাজ্যের মার্কফিল্ড ইন্সটিটিউট অব হাইয়ার এডুকেশনের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার ড. উসামা আল আযামী বলেন, ‘পাশ্চত্যের খ্যাতনামা এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী একজন আলেমের নিজের ভাগ্যকে আমেরিকার ইতিহাসে সর্বাধিক বিকৃত ও ইসলামবিদ্বেষী প্রশাসনের সাথে এভাবে সংযুক্ত করার বিষয়টি অনেক মুসলমানের কাছে ক্ষমার অযোগ্য ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে যা কেউ সহজে ভুলতে পারবে না।’

এর আগেও তার বিভিন্ন কর্মকান্ড ও বক্তব্য বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সহনশীল রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে করা তার মন্তব্য বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ২০১৭ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক সমীক্ষা থেকে জানায় যে, আরব আমিরাতে মানবাধিকার পরিস্থিতি চরম হুমকির মুখে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সেখানে কথা বলার সুযোগ নেই বললেই চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *