ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব ডেমোক্রেটিক নারী এমপিদের

আমেরিকা লিড নিউজ

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ণবাদী মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের চার নারী এমপি। সোমবার একের পর এক টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্টের প্রতি তোপ দাগেন তারা। শুধু তাই নয়, হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ট্রাম্পের জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনার দিকে এগোচ্ছেন। এই নিয়ে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি। রিপাবলিকান সদস্যদের কাছেও এই প্রস্তাবটি সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।

‘গোটা বিশ্বের নিরিখে যেখানে সরকার নিকৃষ্টতম, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অদক্ষ… সেই সব দেশ থেকে আসা ‘প্রগতিশীল’ নারীরা… আমেরিকার মতো সেরা এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রের নাগরিকদের বোঝাতে এসেছেন, কিভাবে সরকার চালাতে হবে। তারা যেখান থেকে এসেছেন, সেখানেই ফিরে যাচ্ছে না কেন। অস্থির, অপরাধপ্রবণ সেই জায়গাগুলো বরং ঠিকঠাক করে আমাদের দেখাক না কিভাবে কাজটা করতে হবে’। কারও নাম উল্লেখ না করে রোববার ট্রাম্প টুইট করে এভাবেই আক্রমণ করেন।

কাকে উদ্দেশ করে এ সব বলেন ট্রাম্প। বেশির ভাগেরই অনুমান, নিউইয়র্কের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো কর্তেজ, মিনেসোটার ইলহান ওমর, মিশিগানের রশিদা তালিব এবং ম্যাসাচুসেটসের আইয়ানা প্রেসলি- ট্রাম্পের নিশানা মূলত এরাই। মার্কিন কংগ্রেসের চার ডেমোক্র্যাট নারী। এদের তিন জনের জন্ম এবং বড় হয়ে ওঠা আমেরিকাতেই। শুধু ইলহান শৈশবে আমেরিকায় এসেছিলেন সোমালিয়া থেকে। মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিবাদী ওই চার নারীকে এখন ‘স্কোয়াড’ বলে ডাকা হচ্ছে।

ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব দিয়ে এদিন আলেকজান্দ্রিয়া বলেন,‘মি. প্রেসিডেন্ট, আমি যে দেশের এবং যে দেশের জন্য আমরা সবাই শপথ নিয়েছি, তার নাম আমেরিকা। কিন্তু আপনি আমাদের সীমান্তকে অমানবিক শিবির বানিয়ে ধ্বংস করেছেন, যাতে শুধু আপনার এবং সেনাবাহিনীর লাভ হয়। দুর্নীতির কথাটা এক্কেবারে ঠিক বলেছেন, আপনার পায়ের কাছেই সেটা হয়ে চলেছে।’

একের পর এক টুইটে আলেকজান্দ্রিয়ার সংযোজন, ‘আপনি রেগে গিয়েছেন কারণ আপনি সেই আমেরিকার কথা ভাবতেই পারেন না যে আমেরিকা আমাদের গ্রহণ করেছে। যুদ্ধবাজ মনোভাব থেকে একটা ভয়ানক আমেরিকার ওপরে নির্ভর করেন আপনি। যে আমেরিকা আমাদের জিতিয়েছে, তাকে মানতে চান না। আমরা আপনাকে ভয় পাই না, আপনি মানতে পারেন না সেটাও।’

রশিদা ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বিশৃঙ্খল ও সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রেসিডেন্টের উদাহরণ জানতে চান। উনি নিজেই তা-ই। ওনার ভয়ঙ্কর মতাদর্শ সেই সঙ্কট তৈরি করে। তাকে ইমপিচ করা উচিত।’ ইলহান বলেছেন, ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদে ইন্ধন জোগাচ্ছেন উনি। আমরা কংগ্রেসে এসেছি এবং আপনার ঘৃণ্য-রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি বলে আপনার এত রাগ।’

আইয়ানা ট্রাম্পের টুইটের স্ক্রিনশট দিয়ে লিখেছেন, ‘বর্ণবিদ্বেষ দেখতে অনেকটা এই রকম। আর আমাদের দেখে বুঝুন, গণতন্ত্রের চেহারাটা কেমন।’ট্রাম্প অবশ্য বেলা গড়াতেই ফের জানিয়েছেন, তার টুইটগুলো বর্ণবিদ্বেষী নয়। তার কথায়, ‘যদি আমাদের দেশ নিয়ে কারও সমস্যা থেকে থাকে, কেউ যদি আমাদের দেশে থাকতে না চান, তারা চলে যাবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *