ইউরোপকে পাত্তাই দিচ্ছেন না এরদোগান

এশিয়া প্যাসিফিক

পাশ্চাত্যের সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘদিনের সামরিক এবং রাজনৈতিক বন্ধনে সম্প্রতি চিড় ধরেছে।

আমেরিকা এবং ন্যাটোর সামরিক জোটের বহু অনুরোধ, উপরোধ এবং সবশেষে হুমকির তোয়াক্কা না করে তুরস্ক গত সপ্তাহ থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের চালান নিতে শুরু করেছে।

জবাবে তুরস্ককে শতাধিক অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি তারা তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরিকল্পনা আঁটছে।

বারাক ওবামা শাসনামলে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চেয়েছিল। ওবামা প্রশাসন বেশ কিছুদিন ঝুলিয়ে রেখে তুরস্ককে জানিয়ে দেয়, প্যাট্রিয়ট তাদের দেয়া হবে না।

কুয়ালালামপুরে মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সামরিক বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বিবিসিকে বলেন, এই দূরত্ব একদিনে তৈরি হয়নি। অনেক বছর ধরে ধীরে ধীরে এটি বেড়েছে।পশ্চিমা বিশ্ব তুরস্ককে কেন আগের মতো আর পাত্তা দিচ্ছে না, তার কিছু কারণ উল্লেখ করেন ড. আলী।

বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢোকার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। অথচ একই সময়ে তুরস্ককে পাশ কাটিয়ে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে ইইউ জোটে নেয়া হয়েছে।

মাহমুদ আলী বলেন, তুরস্ক বিশ্বাস করে মুসলিম প্রধান দেশ বলেই তাদেরকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।

তিন বছর আগে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফেতুল্লা গুলেনকেই দায়ী করেন এরদোগান। তাকে বিচারের জন্য তুরস্কে পাঠানোর দাবি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্ক কুর্দিদের বহুদিন ধরে চলা সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বিরাট হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার বলেছেন, কুর্দিরা আমাদের শত্রু। তোমরা তাদের সমর্থন দিয়ে তাদেরকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাচ্ছ, সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে তাদের সাহায্য করছ।

কুর্দিদের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানই আঙ্কারাকে মস্কোর দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে, বলেছেন বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক ভাষ্যকার জনাথন মার্কাস।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা। তারা ভয় পাচ্ছে, এস-৪০০ স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের জন্য প্রচুর রুশ সামরিক প্রশিক্ষক এবং প্রকৌশলী তুরস্কে যাতায়াত করবে। ফলে তুরস্কের আকাশে যদি মার্কিন এফ-৩৫ ওড়ে তখন কাছে বসে সহজে ওই বিমান সম্পর্কে গোয়েন্দাগিরির সুযোগ পাবে রাশিয়া।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে তুরস্ক কি তাহলে পাশ্চাত্যের সামরিক বলয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে? মাহমুদ আলী বলেন, তুরস্ক বেরিয়ে যেতে চায় না। কিন্তু গত ৬-৭ বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, পশ্চিমারা তুরস্কের মিত্র ভাবে কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং পাশ্চাত্য বিশ্বকে নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতরেও বৈরী মনোভাব তীব্রতর হচ্ছে।

সম্প্রতি তুরস্কের কাদির হাস ইউনিভার্সিটির জরিপে দেখা গেছে, এস-৪০০ রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা উচিত বলে মনে করেন ৪৪ শতাংশ। ২৫ শতাংশের মতে উচিত নয়।

একই জরিপে ৮১ ভাগ মানুষ আমেরিকাকে হুমকি মনে করে। অন্যদিকে ৫৫ শতাংশ রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বকে ইতিবাচক বলে মত দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *