ছাত্রদলের কাউন্সিল: সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমানের ইশতেহার ‘অদম্য ১৯’

বাংলাদেশ লিড নিউজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা- দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর আসন্ন ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল-২০১৯ ঘিরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থীরা জোরে শোরে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। নানা প্রতিশ্রুতিসহ প্রকাশ করছেন নির্বাচনী ইশতেহার। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯ দফা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ইশতেহার ‘অদম্য ১৯’ সামনে এনেছেন সভাপতি প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান।

‘মেধা-মনন- সৃজনশীলতায়, এগিয়ে যাবার দৃঢ় প্রত্যয়’- নির্বাচনী স্লোগানের ইশতেহারটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বেগবান করে তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেযারম্যান জনাব তারেক রহমানের  দ্রুত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

হাফিজুর রহমানের ইসতেহারে আরও বলা হয়েছে, কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও ৪ বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়নের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া ওয়ার্ড-ইউনিয়ন-কলেজ-পৌর-থানা-উপজেলা-জেলা-মহানগর-বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রীয় সংসদ ক্রমান্বয়ে সব কমিটি সরাসরি ভোট তথা গণতান্ত্রিকভাবে গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ।

দায়িত্বভারের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে যেকোন কমিটির সর্বশেষ সদস্য থেকে সভাপতি পর্যন্ত কার্যপরিধির বিস্তৃতি, সম্পাদকমণ্ডলীর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব কার্যকর করণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করণ, সমস্ত পর্যায়ের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্রী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করণ এবং ইউনিট কমিটির মেয়াদ এক বছর ও কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর কার্যকর করণ এবং মেয়াদ শেষের তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিল তথা নতুন কমিটির বাধ্যবাধকতা আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এক্ষে্ত্রে উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোন ইউনিটের স্বতন্ত্র ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ তদানুসারে কর্মসূচি বাস্তবায়নের স্বাধীনতা প্রদান করা হবে।  

ইসতেহারে আরও বলা হয়েছে,  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর নিজস্ব গবেষণা সেল গঠন, মাসিক পত্রিকা প্রকাশ, ওয়েব সাইট নিয়মিত করণ ও অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সৃষ্টির মাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিটি পর্যায়ে বাধ্যতামূলক পক্ষকালীন পাঠচক্র আয়োজন, বাৎসরিক সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়মিত করা হবে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর নিজস্ব ফান্ড গঠন, দরিদ্র/মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ চর্চাসহ সম্প্রীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা হবে। বিশ্বায়নের যুগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর নেতা-কর্মীদেরকে জীবনমুখী ও প্রায়োগিক করে গড়ে তুলতে ষান্মাসিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ও মতবিনিময় কর্মসূচি গ্রহণ। সততার সহিত সফল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী গড়ে তুলতে মেডিকেল, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, আইন, বিজ্ঞান, কৃষিসহ অন্যান্য কারিগরি সেক্টরের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বতন্ত্র গবেষণা ও মনিটরিং সেল গঠন করা হবে।

প্রতি বছর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর নেতা, কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীর মধ্য থেকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীর বহির্বিশ্বে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ও কেন্দ্রীয় সংসদের দায়িত্বে গবেষণার জন্য প্রেরণ করা হবে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এর প্রচার-প্রসার-প্রতিষ্ঠা এবং দেশের আপামর শিক্ষার্থীদেরকে নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক ভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন এবং সকল বাংলাদেশির জন্য ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন, জীবনমুখী  শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর সর্বোচ্চ সচেষ্ট ভূমিকা পালন করা হবে।

এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সর্বদা-সর্বাগ্রে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর সচেষ্টতা নিশ্চিত করণ,  দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীবান্ধব, গণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদকমুক্ত করণ এবং দেশের সকল ছাত্রসংসদে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণসহ বাস্তবায়ন করা হবে।

বলা হয়েছে, গ্লোবাল ভিলেজের অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাঁর আদর্শ ও লক্ষ্যকে ধারণ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি-পরিসর বৃদ্ধি ও সুহৃদ-সুজন তৈরিসহ বিভিন্ন দেশের ছাত্রসংগঠন তথা ছাত্রসংসদের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক স্থাপন এবং মতামত বিনিময়ে সচেষ্ট হবে। প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-অখণ্ডতা সুরক্ষা এবং সাম্য, ন্যায়, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় প্রতিটি বাংলাদেশির পাশে থাকবে।

ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যেে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর হতে যাচ্ছে ছাত্র সংগঠনটির ষষ্ঠ কাউন্সিল। এজন্য প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। কাউন্সিলরদের (ভোটার) দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। দীর্ঘ ২৭ বছর পর সরাসরি ভোট হতে যাওয়া এ নির্বাচন নিয়ে কাউন্সিলরদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ। সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সেরর ছাত্র হাফিজুর রহমান, কাজী রওনকুল শ্রাবণ, ফজলুর রহমান খোকন ও মাহমুদুল হাসান বাপ্পি।

সিন্ডিকেটমুক্ত এ নির্বাচনে কে সংগঠনের নেতৃত্বে আসবেন- তা নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। তবে অঞ্চলভিত্তিক ভোটই এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে মূল ফ্যাক্টর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *