‘যুদ্ধবাজ’ জন বোল্টনকে বহিষ্কার করলেন ট্রাম্প

আমেরিকা লিড নিউজ


ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা জন বোল্টনকে বহিষ্কার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার যুদ্ধবাজ খ্যাত এই উপদেষ্টাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে এক টুইট বার্তায় জানা তিনি।  ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে বোল্টনের মতের সঙ্গে  তার মতবিরোধ ছিল।  এ জন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ট্রাম্প টুইটে লিখেছেন, ‘গত রাতে আমি জন বোল্টনকে জানিয়েছি, হোয়াইট হাউসে তাঁর আর প্রয়োজন নেই।’ একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে নতুন নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হবে। কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন চলছে, তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছিলেন, সেটা নিয়ে মন্ত্রী পরিষদে বিভক্তি দেখা দিয়েছিল। আর এই বিভক্তির মধ্যেই বোল্টনকে বহিষ্কারের এই ঘোষণা এল।

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক তৃতীয় উপদেষ্টা ছিলেন বোল্টন। এর আগে একই পদে ছিলেন মাইকেল ফ্লিন ও এইচআর ম্যাকমাস্টার। ট্রাম্পের বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন বোল্টন এক টুইটে বলেছেন, সোমবার রাতেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগ পত্র দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প সে সময় তাকে জানিয়েছিলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) আলোচনা করতে পারি।’

তালেবানের সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি বিষয়ক আলোচনার বরাবরই বিরোধী ছিলেন বোল্টন। গত রোববার ওই আলোচনায় হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প আকস্মিক ওই বৈঠক বাতিল করেন। ট্রাম্পের ওই শান্তিচুক্তির বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষত এমন এক মাসে ট্রাম্প ওই আলোচনা করতে যাচ্ছিলেন, যে মাসে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তালবান জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

রাজনীতি বিষয়ক সাময়িকী ফরেন পলিসিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ওই শান্তিচুক্তির বৈঠক সম্পর্কে বোল্টন বলেছিলেন, ‘কোনো সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিডে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান একটি ‘ন্যক্কারজনক উদাহরণের’ জন্ম দেবে।’

ট্রাম্পের বোল্টনকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নেয়াটা তার অন্যান্য সিদ্ধান্তের মতোই উদ্বেগজনক ছিল। কারণ যুদ্ধবাজ হিসেবে পরিচিত বোল্টন ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে যেকোনো সময় যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারেন-এমন আশঙ্কা ছিল বিশ্লেষকদের। বোল্টন বিশ্বাস করেন,  আন্তর্জাতিক আইন, সনদ ও পূর্বেকার প্রশাসনের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যা খুশি তা-ই করতে পারে। তিনি উত্তর কোরিয়ায় হামলা করে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি অসাড় করে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। অথচ এ ধরণের যেকোনো হামলা এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে যার দরুন মারা যেতে পারেন হাজার হাজার মানুষ।

একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে খাটো করেছেন। ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও বিরোধী তিনি। এছাড়া যে ছয় দলীয় ইরান পারমাণবিক চুক্তির ফলে ২০১৫ সাল থেকে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প উল্লেখযোগ্য হারে সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে, বোল্টন সেই চুক্তি শুধু বাতিলই করতে চান না; তিনি ইরানে বোমা হামলা চালানোর আহ্বান পর্যন্ত জানিয়েছেন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুদেশীয় সনদের প্রতি ট্রাম্পের মতো তার বিদ্বেষও সুবিদিত। তিনি একতরফা সমাধানে বিশ্বাসী।

৩০ বছরের ক্যারিয়ার জুড়ে বোল্টন তিনজন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করেছেন। ছিলেন জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ অস্ত্রনিরোধ কর্মকর্তা। এমন গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক পদে কাজ করলেও, বোল্টন মূলত কূটনীতি ও অস্ত্র-নিরোধ নীতিকেই অবজ্ঞা করে এসেছেন। তিনি সবসময়ই ছিলেন সামরিক সমাধানের পক্ষপাতী। ১৯৯৪ সালে উত্তর কোরিয়ার প্লুটোনিয়াম প্রকল্প স্থগিত করার বদলে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করতে বোল্টনের মতো কেউই এত সোচ্চার ছিলেন না। ওই চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার কারণেই উত্তর কোরিয়া নিয়ে বর্তমান সংকটের মুখে বিশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *