জলবায়ু সম্মেলনে জ্বালাময়ী বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের কঠোর সমালোচনায় গ্রেটা থানবার্গ

আমেরিকা লিড নিউজ

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র- জাতিসংঘ জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন ইউএন ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে রাজনীতিকদের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ। উপস্থিত রাজনীতিকদের উদ্দেশে সুইডেনের কিশোরী পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ বলেন, জলবায়ু নিয়ে বছরের পর বছর তোমরা ফাঁকা বুলি শুনিয়েছ। এসব ফাকা বুলি শুনিয়ে তোমরা আমার স্বপ্ন ও শৈশব চুরি করেছ। কি সাহস তোমাদের। চোখে-মুখে আগুন ঝরিয়ে তিনি আরও বলেন, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। আর তোমরা অর্থনীতি আর টেকসই প্রবৃদ্ধির রূপকথার গল্প বলছ। কত বড় দুঃসাহস তোমাদের।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে সোমবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন ইউএন ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট।সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য রাখেন সুইডেনের ১৬ বছর বয়সী পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ। বক্তব্যের শুরু থেকেই অনল বর্ষণ করতে থাকেন তিনি।

সরাসরি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে আবেগপূর্ণ বক্তব্যে গ্রিতা থানবার্গ বলেন, ‘সবকিছুই ভুলভাল চলছে। আমার এখানে থাকার কথা নয়। সমুদ্রের অপর পাড়ে আমার স্কুলে থাকার কথা।’ স্পষ্টভাবে তিনি বলেন, ‘তোমরা আমাদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছ। কিন্তু তরুণেরা আপনাদের বিশ্বাসঘাতকতা বুঝতে শুরু করেছে। সমস্ত ভবিষ্যত প্রজন্মের দৃষ্টি তোমাদের দিকে। তোমরা যদি আমাদের ব্যর্থ করে দিতে চাও, আমি বলছি, আমরা তোমাদের কখনোই ক্ষমা করব না।’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাজনীতিবিদদের ভূমিকা নিতে বাধ্য করতে এক বছর আগে সুইডেনের স্কুল শিক্ষার্থী গ্রিতা থানবার্গ শুরু করেন তরুণদের আন্দোলন। গত বছর বিশ্বজুড়ে স্কুলে ধর্মঘট পালনের পর বড়দেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন শহরে জড়ো হয় লাখ লাখ মানুষ। তারা ওই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।

সোমবার নিউনিয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ব্যবসায়ী নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে করণীয় ঠিক করতে মতামত রাখেন তারা।

সামিটে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, দিনের শুরুতে কিছু তরুণ বক্তা যে আবেগঘন বক্তব্য রেখেছে তাতে আমি বিস্মিত হয়েছি। তাদের কথা আমলে নেয়ার জন্য আমি ভূমিকা রাখতে চাই। আমি মনে করি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই আহ্বানকে কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত হবে না।

বিশ্বনেতাদের সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। ফাঁকা বুলি না দিয়ে নেতাদের সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করতে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। আমরা যদি মনে করি, প্রকৃতিকে বোকা বানাতে পারব তাহলে আমরাই বোকা হয়ে যাব। সবকিছুরই একটা মূল্য আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় যেখাতে খরচ হচ্ছে সেখানে কিছুই করা হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি ভিত্তিক শিল্পে, অধিক থেকে অধিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ খাতে ভর্তুকি দিয়ে। আর এতে আমরা জলবায়ু বিষয়ক এক গভীর গহ্বরে অবস্থান করছি। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমাদেরকে প্রথমেই খনন বন্ধ করতে হবে।’

ফরাসি খাদ্য বিষয়ক গ্রুপ ড্যাননের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমানুয়েল ফেবার বলেন, আমরা জীবনচক্রকে ভেঙে দিয়েছি। অধিকতর টেকসই ফার্মিংয়ের দিকে এগিয়ে যেগে ১৯টি বড় খাদ্য বিষয়ক কোম্পানি ‘ওয়ান প্লানেট’ কর্মসূচি নিয়েছে বলে তিনি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, জীবন ধ্বংসের পথ থেকে সরে আমাদেরকে আসতে হবে কৃষিতে ভর্তুকি খাতে।

সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাজির হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে এতে কোনো বক্তব্য রাখেননি ট্রাম্প; তবে তিনি শুনেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এমন অনুন্নত দেশগুলোর জন্য জাতিসংঘের ২০০ কোটি ইউরোর তহবিল বাড়িয়ে ৪০০ কোটি ইউরো করার বিষয়ে সমর্থন করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *