ক্যাসিনো কাহিনী

অন্যান্য

ক্যাসিনো মানেই টাকা উড়ানোর জায়গা। শুরুতে যখন টাকা উড়ানোর এই খেলায় ধনাঢ্য ব্যক্তিরা মত্ত হন তখন ক্যাসিনোর ধারণা ছিল না, ছিল অনিয়ন্ত্রিত জুয়ার আসর। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে জুয়ার আসর বসাতে ক্যাসিনোর উৎপত্তি। তবে ঠিক কবে থেকে পৃথিবীর প্রথম ক্যাসিনো চালু হয়েছে তার সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব হয়নি।

ইতিহাসবিদদের মতে, আমাদের উপমহাদেশেই পৃথিবীর প্রথম ক্যাসিনো স্থাপিত হয়। তাদের মতে, জুয়া থেকে সরকারি লভ্যাংশ ও শুল্ক নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই প্রায় দুই হাজার বছর আগে সরকারিভাবে ক্যাসিনো স্থাপন করা হয়। ইউরোপের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইতালিতে সর্বপ্রথম ১৬৩৮ সালে ভেনিস শহরে রিডোট্ট নামে এক ক্যাসিনো তৈরি করা হয়েছিল। তখন জ্ঞানী লোকদের পরামর্শে এটি তৈরি করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল কার্নিভাল সিজনে হওয়া জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা। পরবর্তীতে সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে ১৭৭৪ সালে শহরের প্রধান ক্যাসিনোটি বন্ধ করা হয়।

অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ক্যাসিনোর নাম স্যালুন্স। ১৯৩১ সালে আমেরিকার নেভাদা রাজ্যে সরকারের অনুমোদনে এই ক্যাসিনো গড়ে ওঠে। যদিও এটি  তৈরি করা হয়েছিল পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য। এখানে তারা জুয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, ড্রিংকস করার সুযোগ পেত। তবে খুব অল্প সময়েই এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিশ শতকের দিকে গোটা আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে রয়েছে এমন অসংখ্য ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা। প্রতিরাতে উড়ানো হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা খেলার ছলে মনোরঞ্জনের জন্য ক্যাসিনোতে আসেন। পোকার (জুজু খেলা), বাক্কারাট (বাজি ধরে তাস খেলা), রুলেট, পন্টুন, ফ্লাশ, বিট, ডিলার, ব্লাকজ্যাক এবং কার্ডস্ট মেশিনের খেলা ছাড়া মদের আসর বসে এসব ক্যাসিনোতে। বড় বড় ক্যাসিনোগুলোতে কয়েকটা ফ্লোর নিয়ে, কয়েক লাখ বর্গফুটের বিশেষভাবে ডিজাইন করা। সেখানে থাকে শত শত ভিডিও গেমসদৃশ ক্যাসিনো স্ল­টসহ নানা রকম বিচিত্র খেলা। এশিয়ার কয়েকটি দেশ যেমন নেপাল, ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এসব জুয়ার আসরে এগিয়ে। এসব ক্যাসিনোর ব্যবসা দিনকে দিন বাড়ছে।

সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র

ক্যাসিনোর কথা ওঠলেই প্রথমে আসবে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের নাম, নেভাদায় যার অবস্থান। ৩৬০টি ক্যাসিনোর অস্তিত্ব শুধু এই এক অঙ্গরাজ্যেই রয়েছে। ইউটাহ, হাওয়াই আর আলাস্কা ছাড়া ক্যাসিনো রয়েছে দেশটির বাকি সব রাজ্যেই। সব মিলিয়ে ১৯৫৪টি ক্যাসিনো চালু আছে যুক্তরাষ্ট্রে। যেখানে চলে ৯ লাখের ওপর স্লট মেশিন। ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান আর বছরে ৭০ বিলিয়ন ডলার আয়ের জোগান দেয় দেশটির ক্যাসিনো।

জুয়া ভালোবাসে কানাডার মানুষ

সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্যাসিনো আছে কানাডায়। জনগণকে ক্যাসিনোর মালিকানা আর পরিচালনার প্রথম অনুমতি দেয় উদারমনা এ দেশটি। বর্তমানে সেখানে মোট ক্যাসিনোর সংখ্যা ২১৯টি। সবচেয়ে বেশি ৭৩টি আছে অ্যান্টারিওতে। এরপর তালিকায় আছে আলবার্টা আর ব্রিটিশ কলম্বিয়া। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটির ৭৬ ভাগ মানুষই কোনো না কোনো জুয়ার সাথে জড়িত। এর মাধ্যমে বছরে সাড়ে ১৫ বিলয়ন ডলার লেনদেন হয়।

মেক্সিকোতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় ক্যাসিনো

উত্তর আমেরিকার আরেক দেশ মেক্সিকোতে দেশটিতে ২০৬টি ক্যসিনো রয়েছে। তবে গেম পরিচালনায় এর কোনোটিতেই নিজস্ব কোনো প্রোগ্রাম নেই, পুরোটাই কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কোডারে, বিগ বোলা আর ইমোশন -এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের দখলে মেক্সিকোর ক্যাসিনো শিল্পের বড় অংশ।

ফ্রান্স

উত্তর অ্যামেরিকার দেশগুলোকে বাদ দিলে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্যাসিনো রয়েছে ফ্রান্সে। বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ক্যাসিনোগুলোর দেখা মিলবে এ দেশটিতেই। অ্যামেরিকার মতো জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও ঐতিহাসিক দিক থেকে এসব খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- ১৯১২ সালে চালু হওয়া ক্যাসিনো ব্যারিয়ো দাভিলা। সব মিলিয়ে ১৮১টি ক্যাসিনো চালু আছে ফ্রান্সে। এর পরের অবস্থানটি নেদারল্যান্ডসের, যেখানে ১৬৬টি ক্যাসিনো রয়েছে।

ব্রিটিশরা কথায় কথায় বাজি ধরেন

রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে রাজপথ, বাজি যদি জুয়ার মধ্যে পড়ে তাহলে ব্রিটিশদের চেয়ে এগিয়ে আর কেউ নেই। শুধু লন্ডনেই হাজারের ওপর বেটিং শপ আছে। ২০ লাখের বেশি ব্রিটিশ অনলাইনে জুয়া খেলে। এর বাইরে মেফেয়ার আর পিকাডিলির মতো খ্যাতনামা ক্যাসিনো তো রয়েছেেই। সব মিলিয়ে সংখ্যাটি ১৫৮।

ম্যাকাও মানেই ক্যাসিনো

সংখ্যায় বেশি না হলে নামিদামি ক্যাসিনোর দিক থেকে লাস ভেগাসের পরেই রয়েছে চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঙ্গরাজ্য ম্যাকাওয়ের নাম। বলতে গেলে সেখানকার অর্থনীতি এ শিল্প নির্ভর। যুক্তরাষ্ট্রের উইনস্টারের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো ভেনিটিয়ানের অবস্থানও এখানে। সিটি অব ড্রিমস, পন্টে সিক্সটিন, স্যান্ডস, এমজিএম গ্র্যান্ডও আছে দশের ভেতরে। মাত্র অর্ধশত ক্যাসিনোই ম্যাকাওয়ের সরকারের ৮০ ভাগ রাজস্বের যোগান দেয়।

তালিকায় কিছু মুসলিম অধ্যুষিত দেশও রয়েছে

বিশ্বের অনেক মুসলমান প্রধান দেশেও এখন বৈধ ক্যাসিনো আছে। সবচেয়ে বেশি ১৭টি আছে মিশরে, যার ১৪টি শুধু রাজধানী কায়রোতেই। ৯টি আছে তুরস্কে। আফ্রিকার মরক্কোতে আছে ৭টি। এছাড়াও মধ্যাপ্রাচ্যের আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, আরব আমিরাত আর এশিয়ার মালয়েশিয়াতেও ক্যাসিনোর অনুমোদন রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশ

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১টি ক্যাসিনো আছে ভারতে। গোয়ার পানাজি, গ্যাংটক, মুম্বাইসহ মোট ১১টি শহরে সেগুলোর অবস্থান। ৫টি ক্যাসিনো আছে শ্রীলঙ্কায়, যার সবগুলোই রাজধানী কলম্বোয়। এছাড়া ১১টি ক্যাসিনো রয়েছে নেপালে, আর ৫টি রয়েছে মিয়ানমারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *