ইয়েমেন যুদ্ধে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ২০ লাখ শিশু: জাতিসংঘ

মধ্যপ্রাচ্য

(নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র) যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে প্রায় ২০ লাখ শিশু স্কুল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে দেশটিতে সহিংসতা শুরুর পর গত পাঁচ বছরে এসব ঝরে গেছে। শিক্ষার মতো একটি মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হয়েই বেড়ে উঠছে তারা। এছাড়া আরও ৩৭ লাখ শিশুর শিক্ষা ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। কারণ শিক্ষকরা ২ বছর ধরেই কোনও বেতন পান না। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেই থেকে দেশটির স্কুল-কলেজ, হাসপাতা ও আবাসিক ভবনসহ নানা স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে।

ইয়েমেনে ইউনিসেফ প্রতিনিধি সারা বায়েসলো নয়ন্তি বলেন, সহিসংতা, স্থানচ্যুতি ও স্কুলগুলোতে হামলার কারণে বহু শিশু স্কুলে যেতে পারে না। এই শিশুরা ভয়াবহ নিপীড়নের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের অনেকেই যুদ্ধে যোগ দিতে কিংবা বাল্য বিয়েতে বাধ্য হচ্ছে। বেড়ে গেছে শিশু শ্রমও।

সংস্থাটি জানায়, সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশটির প্রতি পাঁচটি স্কুলের একটি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এই সংঘাত ইয়েমেনের ইতোমধ্যে ভঙ্গুর হয়ে পড়া শিক্ষা পদ্ধতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৮ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। জাতিসংঘ ইয়েমেনের মানবিক সংকটকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *