নেতানিয়াহুকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানালেন প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্য

(তেলআবিব, ইসরাইল) নির্বাচনে কম আসন সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিউভিন রিভলিন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টজ ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে রাজি না হওয়ায় বুধবার এক নির্দেশনার নেতানিয়াহুকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়। তবে নেতানিয়াহু কি এবারও সরকার গঠন করতে পারবেন, নাকি আবারও ব্যর্থ হতে হবেন সেটা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হবে। খবর রয়টার্সের।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং বেনি গ্যান্টজের মধ্যপন্থী ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি নেসেটের ৩৩টি আসন পায় এবং লিকুদ পার্টি পায় ৩২টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোনো একটি দলকে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টি আসন পেতে হয়।

 কিন্তু এবারের নির্বাচনে জোটগতভাবেও দুই দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু এবং বেনি গ্যান্টজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশটিতে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করার পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে ইচ্ছুক নন বেনি গ্যান্টজ। বেনি গ্যান্টজ জানান, ডানপন্থী জোট বা এমন কারও সঙ্গে তিনি সরকার গঠন করবেন না যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বিবিসি জানায়, নির্বাচনে গ্যান্টজের আসনসংখ্যা বেশি হলেও বর্তমান নেসেটে আইনপ্রণেতাদের সমর্থন নেতানিয়াহুর দিকে। সেখানে মাত্র একজন আইনপ্রণেতার সমর্থন বেশি পান নেতানিয়াহু। যাতে ৫৫ জন আইনপ্রণেতা নেতানিয়াহুকে এবং ৫৪ জন গ্যান্টজেকে সমর্থন দেন। ফলে নেতানিয়াহুকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট রুভেন রিভলিন। নতুন সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহু ছয় সপ্তাহ সময় পাবেন। তবে প্রয়োজনে তিনি আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে নিতে পারবেন।

এর আগে এপ্রিলের নির্বাচনেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে একইভাবে সরকার গঠনের নির্দেশ পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেবার একটি কার্যকরী জোট সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটিতে দ্বিতীয়বার নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় নির্বাচনেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ক্ষমতা হারানোর মুখে পড়েন নেতানিয়াহু। রেকর্ড পঞ্চমবার ইহুদি রাষ্ট্রটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান বেনি গ্যান্টজ। ক্ষমতা হারালেই দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *