সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসলামের কোন যোগসূত্র নেই: জাতিসংঘে এরদোগান

আমেরিকা

(নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র) সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসলামের যোগসূত্র গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, ইসলামকে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করা একটি অনৈতিক ও উদ্দেশ্যমূলক অপবাদ। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সন্ত্রাসবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। এরদোগান আরও বলেন, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে মতামতের স্বাধীনতায় কখনও বিভ্রান্ত হওয়া উচিত না। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। খবর আদানাদোলু এজেন্সির।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুসলমানদের ঘৃণার বক্তব্যই শুধু বড় করে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এরদোগান। তিনি বলেন, মুসলিম নারীরা হিজাব পরায় সড়কে ও কর্মস্থলে হেনস্থার স্বীকার হন। একটি দেশ হিসেবে যার বিদেশে ৬৫ লাখ নাগরিক রয়েছে, যারা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হা’মলার শিকার হচ্ছে, আমরা এ বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারি না।

সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা জনপ্রিয়তা বাড়াতে ঘৃণা চর্চা ছড়াচ্ছেন, এদের কারণে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে, এটাকে (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য) তারা বাকস্বাধীনতা হিসেবে অভিহিত করছেন। ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

তিনি ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা জানান। যারা গরুর মাংস খান ও তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর শ্রদ্ধা জানাতে ভারতকে আহ্বান জানান। এরদোগান বলেন, ভারতে আমরা কীভাবে মুসলিম যুবকদের রক্ষা করব, যাদের বেত্রাঘাত করা হচ্ছে, চাপাতি দিয়ে কোপানো হচ্ছে, এমনকি গরুর মাংস খাওয়ার দায়ে মৃ’ত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, হিন্দু ধর্মের জন্য গরুকে পবিত্র ধরা হয়।

হিন্দু জাতীয়বাদীরা মুসলিম গরুর মালিকদের ওপর হা’মলা করছে। বিভিন্ন উদীয়মান গোরক্ষা গোষ্ঠীর নামে এসব করা হচ্ছে। এরদোগান তার বক্তব্যে কাশ্মীরের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কাশ্মীর একটি মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে এবং এখানকার বাসিন্দারা কারাগারে রয়েছেন।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সব (বিদেশি) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর পরে। এ সময় তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান থেকে সবাইকে সক্রিয় হতে আহ্বান জানান। ইসলামের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন,শান্তির ধর্মকে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করা একটি অনৈতিক অপবাদ। এটি অগ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, আমরা ইসলামফোবিয়া, বর্ণবাদ এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লড়াই করার সব চেষ্টা চালিয়ে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *