ইয়েমেনে অনাহারে ঘণ্টায় ৬ শিশুর মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

সানা, ইয়েমেন- যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে অনাহার ও অপুস্টিতে প্রতি ১০ মিনিটে মারা যাচ্ছে একজন শিশু। এভাবে ঘণ্টা মারা যাচ্ছে ৬ জন। ইয়েমেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক রিপোর্টে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট মতে, গত পাঁচ বছর ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের লাগাতার আগ্রাসনে চরম দুর্ভিক্ষ ও মহামারির কবলে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দরিদ্র দেশটি। পুষ্টিহীনতায় ভুগে ইতিমধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  আল মায়াদিন টিভির বরাত দিয়ে চলতি সপ্তাহে এ খবর জানিয়েছে ইরান প্রেস।

খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আগ্রাসনে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ওপর অব্যাহত বিমান হামলার কারণে ধ্বংস হয়েছে সব অবকাঠামো। ফলে ডাইরিয়া ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগগুলো মহামারির আকার ধারণ করেছে। গত পাঁচ বছরে শুধু কলেরাতেই আক্রান্ত হয়েছ ১৯ লাখ ইয়েমেনি। এর মেধ্যে ৩ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্দের ৪০ শতাংশই আবার শিশু।

গত বছর সেভ দ্য চিলড্রেনের এক প্রতিবেদনে  বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে অুপষ্টিতে ভুগে যে পরিমাণ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তা যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্নিংহামের পাঁচবছরের কম বয়সী মোট শিশুর পরিমাণের সমান। জাতিসংঘের হিসেব মতে, ইয়েমেনে গত তিনবছর ধরে চলা যুদ্ধে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। অর্ধেকের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষপীড়িত হওয়ায় দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে বলে সতর্ক করে জাতিসংঘ।

২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপে দেশটির সংঘাত বাড়তে থাকে। সে বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে। পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আবদ্রাব্বু মানসুর হাদি।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, আগ্রাসনে কমপক্ষে ১০  বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৭’শ জন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে খাদ্য। দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা ভয়াবহ এ যুদ্ধের সবেচেয়ে বড় শিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *