কুর্দিবিরোধী অভিযান: তুরস্কের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আমেরিকা ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- সিরিয়ায় কুর্দিবিরোধী অভিযান অভিযান চালাচ্ছে তুরস্ক। এ কারণে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তুর্কি সরকারের অন্তত দুটি মন্ত্রণালয় ও তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। দেশটির নিকট অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কিন্তু তাদের এমন সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও পক্ষপাতী বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে দেশটি। খবর  বিবিসি, সিএনএনের।

আগেই দেশটিকে সতর্ক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তুরস্কের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও তুরস্ক বিরত বা সীমিত আকারে যুদ্ধ না করায় তিনি ফোন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানকে। তাকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার দাবি করেন। কিন্তু এরদোগান সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। বলেছেন, কাঙিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

চলতি মাসের প্রথম দিকে (৯ অক্টোবর) তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে তুরস্ক। এ অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটি থেকে আইএস জঙ্গি ও কুর্দি বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করে সেখানে একটি ‘সেফ জোন’ তথা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায় আঙ্কারা। এ সেফ জোনে দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কে থাকা ৩৬ লাখ সিরীয় শরণার্থীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে চায় তারা। তুর্কি অভিযানের আগে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু হলে তুরস্ককে সীমা অতিক্রমের বিষয়ে সতর্ক করে দেয় ওয়াশিংটন।

সোমবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুচিন আরোপিত অবরোধকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন এতে তুরস্কের অর্থনীতির ওপর বিরাট প্রভাব পড়বে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে এবং প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তুরস্ক সরকারের সামরিক হামলায় নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে ওই অঞ্চল। আইসিস বা আইএসকে পরাজিত করার যে অভিযান তাকে ছোট করা হচ্ছে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে যখন অর্থমন্ত্রী মনুচিন কথা বলছিলেন তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তুরস্ক যতক্ষণ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে না যায়, সহিংসতা বন্ধ না করে, সিরিয়া ও তুরস্ক সীমান্তের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানে সম্মত না হয় ততদিন বা ততক্ষণ এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ফোন করে সোমবার এ কথাই পুনরায় জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সিরিয়ায় আগ্রাসন চালানোর জন্য তুরস্ককে কোনো সবুজ সংকেত যুক্তরাষ্ট্র দেয় নি বলে এদিন জানান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এর আগে সিরিয়ায় অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসন চালাচ্ছে তুরস্ক- এমন মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আরো বলা হয়, ওই আগ্রাসনের ফলে বহু আটক আইএস যোদ্ধা মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। ওদিকে মাইক প্রেন্স বলেছেন, তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই অঞ্চল সফরে যাবেন।

সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ার সরকারি বাহিনী মানবিজ শহরে প্রবেশ করেছে। মানবিজ শহরের যে এলাকায় সিরীয় শরণার্থীদের ফেরাতে সেফ জোন বা নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করতে চাইছে তুরস্ক সেই পর্যন্ত পৌঁছে গেছে সিরীয় বাহিনী। তুর্কি বাহিনী এবং তাদের মিত্র সিরীয় মিলিশিয়ারাও শহরের কাছে জড়ো হয়েছে। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কুর্দিদের চুক্তিটিকে আসাদের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। কেননা ২০১২ সালের পর এই প্রথম অঞ্চলটিতে প্রবেশের সুযোগ পেলো আসাদ বাহিনী। এলাকাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে সিরীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *