‘এতটা কঠিন হবেন না’- তুর্কি অভিযান নিয়ে এরদোগানকে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প

আমেরিকা ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- সিরিয়ায় অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানকে চিঠি লিখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরদোয়ানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘এতটা কঠিন হবেন না। চলুন সুন্দর একটা চুক্তি করি।’ সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ‘বোকার মতো আচরণ করবেন না।’ খবর এএফপির।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের পক্ষে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের গত সপ্তাহে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর সিরিয়ার সীমান্ত এলাকায় সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে কুর্দিদের ওপর হামলা শুরু করে তুরস্ক। এই হামলায় তুরস্কের সঙ্গে রয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা। সেনা প্রত্যাহারের একদিন পরেই এই চিঠি পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বাজফিড। চিঠিটি প্রথম পান ফক্স বিজনেসের সাংবাদিক ট্রিশ রিগ্যান। এরপর হোয়াইট হাউসও এর সত্যতা নিশ্চিত করে। 

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে চাইবেন না। আর আমিও চাই না তুরস্কের অর্থনীতি ধসে পড়ুক। এবং আমি সেটা করবোই। ট্রাম্প বলেন, আমি আপনার কিছু সমস্যা সমাধানে অনেক পরিশ্রম করেছি। বিশ্বকে হতাশ করবেন না। আপনি নিশ্চয়ই ভালো একটা চিুক্তি করতে পারেন।

গত ৬ অক্টোবর এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। সমালোচকদের ভাষায়, গত সপ্তাহে ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তুরস্ককে হামলার ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের সবুজ সংকেত দেইনি। কেউ যদি চিঠিটা পড়ে থাকেন তবে নিশ্চয়েই বুঝতে পেরেছেন। তার সঙ্গে আলোচনার পরই আমি এই চিঠিটি লিখি।’

চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যদি এখন সঠিক ও মানবিক আচরণ করেন তবে ইতিহাস আপনাকে মনে রাখবে। আর যদি ভালো কাজ না হয় আপনাকে শয়তানরুপে দেখবে। এতটা কঠিন হবেন না।’

৯ অক্টোবর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সকে (এসডিএফ) লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তুর্কি সেনারা। ওই অঞ্চল থেকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে এসডিএফ। তবে সডিএফকে জঙ্গি সংগঠন বলে অভিহিত করে আসছে তুরস্ক। সীমান্ত থেকে সিরিয়ার ৩০ কিলোমিটার গভীর ও ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বরাবর ‘নিরাপদ এলাকা’ গড়ে তুলতে চায় আঙ্কারা। তুরস্কে অবস্থান নেয়া সিরিয়ার ৩৬ লাখ শরণার্থীর বড় একটি অংশকে পুনর্বাসন করা হবে সেখানে।

তবে শরণার্থীদের অনেকেই কুর্দি না হওয়ায় তুরস্কের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কুর্দিরা জাতিগত নিধনের শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করছেন পশ্চিমা সমালোচকেরা। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, তুরস্ক হামলা চালানোর পর সেখানে ডজন ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। কমপক্ষে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *