কুর্দিদের এলাকার ছাড়ার শর্তে ৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত তুরস্ক

আমেরিকা ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

আঙ্কারা, তুরস্ক- কুর্দিদের সঙ্গে ৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মত হয়ছে তুরস্ক। তবে শর্ত দেয়া হয়েছে, এর মধ্যেই তাদের সিরিয়ার উত্তরঞ্চল ত্যাগ করতে হবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানেই যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মত হয়ে তুরস্ক। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন, সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে তুরস্ক। ওয়াশিংটনের এ সংক্রান্ত আহ্বানে আঙ্কারার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। বৃহস্পতিবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। আঙ্কারা বলছে, তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া ২০ লাখেরও বেশি শরণার্থীকে পুনর্বাসনের জন্য সেখানে তারা একটি সেফ জোন গড়ে তুলতে চায়। তুরস্কের অবস্থান ঘোষণার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও-কে তুরস্কে পাঠানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর পেন্স জানান, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক।  তবে সেটা মাত্র পাঁচদিনের জন্য।

মাইক পেন্স বলেন, মাইক পেন্স বলেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। সেখানে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কুর্দি বিদ্রোহীদের এলাকাটি ছেড়ে যেতে ১২০ ঘণ্টার জন্য অভিযান স্থগিত রাখবে আঙ্কারা। এ সময়ে সিরিয়ায় অপারেশন পিস স্প্রিং নামের তুর্কি সামরিক অভিযান স্থগিত থাকবে।

গত ৬ অক্টোবর এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলে ট্রাম্প জানান, সিরিয়ার তুর্কি সীমান্ত এলাকা থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। সমালোচকরা বলছেন, এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তুরস্ককে সিরিয়ায় অভিযান পরিচালনার ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

তবে সিরিয়ায় হামলা চালানোর জন্য তুরস্ককে সবুজ সংকেত দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি কৌশলগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসাধারণ। আমাদের সেনারা সেখানে নেই। তারা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। আমরা পরিস্থিতি দেখছি এবং আলোচনা করছি যাতে তুরস্ক সঠিক কাজ করতে পারে। কারণ আমরা চাই যুদ্ধ থামাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *