ইসরাইল থেকে সৌদি যাওয়া রহস্যময় ব্যক্তিগত বিমানে কে ছিলেন

মধ্যপ্রাচ্য

রিয়াদ, সৌদি আরব- মঙ্গলবার সন্ধ্যা। তেল আবিবেব বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেয় ব্যক্তিগত বিমানটি। কিছুক্ষণ পরই জর্ডানের আম্মানে অবতরণ করে। কয়েক মিনিট পরই সৌদি আরবের রিয়াদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। রিয়াদ বিমানবন্দরে ৫৫ মিনিট অবস্থানের পর আবার বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ফিরে আসে। কিন্তু ব্যক্তিগত বিমানটির যাত্রী কে ছিলেন, তা নিয়ে শুরু হয় জল্না-কল্পনা।

মারিভ ডেইলির সাংবাদিক ইয়োসি মেলম্যান এক টুইটার বার্তায় বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কিংবা মোসাদ প্রধান ইয়োসি কোহেন বিমানটি যোগে রিয়াদে সফর করেছেন। সেখানে সম্ভবত সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠকে যোগ দেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সিংহাসনের উত্তরসূরি হওয়ার পর দেশ দুটির এখন দহরম সম্পর্ক। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব মোকাবেলায় মরিয়া অবস্থান থেকে সৌদি ও ইসরাইলকে একমেরুতে নিয়ে এসেছে।

বিমান শনাক্তকরণ উপাত্তে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত চ্যালেঞ্জার ৬০৪ নামের ব্যক্তিগত মালিকানার বিমানটি সৌদি রাজধানী রিয়াদে ঘণ্টাখানেক ছিল। এরপরে ইসরাইলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ফিরে যায় সেটি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার এ সময় রিয়াদ সফরে ছিলেন। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎসের সাংবাদিক ও বিমান শনাক্তকরণ উপাত্ত সংগ্রহকারী আভি শার্ফ বলেন, রিয়াদে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে তেল আবিব থেকে কেউ এসে থাকতে পারেন।

ইসরাইলি গোয়েন্দা বিষয়ক খবরের ওয়েবসাইট ইনটেলিটাইম লিখেছে, নেতানিয়াহু কেন সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট রিউভিন রিভলিনকে ম্যান্ডেট ফিরিয়ে দিতে দেরি করেছিলেন, এই ঘটনায় সেই ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। বিমানের অন্য যাত্রীদের কেন জর্ডান থেকে তুলে নিতে হয়েছে, তা নিয়েও বিস্ময় রয়েছে।

মানুষের চোখে ধুলা দিতেই বিমানটি আম্মানে থেমেছিল কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক ইয়োসি মেলম্যান। ফ্লাইটরাডার২৪ ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিমানটি ইসরাইল থেকে কায়রোতে কয়েকবার ভ্রমণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *