১৩ দিনের বিক্ষোভে লেবাননে সরকার পতন

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

বৈরুত, লেবানন- টানা ১৩ দিনের বিক্ষোভ-আন্দোলনে লেবাননে সরকারের পতন হয়েছে। দেশজুড়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে নতি শিকার করে মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন দেশটির মিডিয়া মুঘল প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। এদিন টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘সংকট সমাধানে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। আমি এখনই পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাবদা প্যালেসে (প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন) যাচ্ছি।’

এএফপি জানায়, হারিরির এই ঘোষণাকে আনন্দোল­াসের সঙ্গে স্বাগত জানান রাজধানী বৈরুতে জড় হওয়া বিক্ষোভকারীরা। হারিরির জোট সরকারের অন্যতম প্রধান শরিক হিজবুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছে। তাদের মতে বিদেশি শক্তি গৃহযুদ্ধ লাগানোর চেষ্টায় এ বিক্ষোভে মদত দিচ্ছে। হারিরির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ‘চলমান সংকটকে আরও গভীর করবে’ বলে মন্তব্য করেছে ফ্রান্স।

সরকারের দুর্নীতি, নিত্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ১৭ অক্টোবর রাস্তায় নামে লেবাননের মানুষ। এ বিক্ষোভে সাদ হারিরির পদত্যাগসহ সরকারের ব্যাপক সংস্কার দাবি করে তারা। লেবাননে বছরের অন্যতম বড় এ বিক্ষোভ শুরু হয় মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিওকলের ওপর করারোপের সিদ্ধান্তকে ঘিরে। যদিও প্রতিবাদের মুখে সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হারিরি একটি জাতীয় ঐক্য সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল কয়েকটি বিরোধী দলও। টানা বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে লেবাননের বড় শহরগুলো। বিক্ষোভে ১২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বে সর্বাধিক ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম লেবানন। দেশের অচলাবস্থার মধ্যে পদত্যাগ করে হারিরি বলেন, খুব শিগগিরই নিজের পদত্যাগপত্র ও সরকারের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউনের হাতে তুলে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৩ দিন ধরে লেবাননের মানুষ চলমান অস্থিরতা নিরসনে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। এ সময়ের মধ্যে জনতার চাওয়া পূরণে কী করা যায় আমি তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। ‘দেশের বর্তমান সংকট কাটাতে বড়সড় একটি ঝাকুনির প্রয়োজন।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশন ভাষণে লেবানিজদের রক্ষা করতে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে হারিরি সরকার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সংকট দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট আউন। তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারাদের নির্দিষ্ট দাবিগুলো শুনতে আপনাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আমি প্রস্তুত। অর্থনৈতিক পতনের বিষয়ে আমাদের আশঙ্কার কথাগুলোও আপনারা শুনবেন। সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম উপায় আলোচনা। আমি আপনাদের অপেক্ষায় রইলাম।’ তবে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *